বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

রায়পুরে বিদ্রোহীদের চাপে নৌকার প্রার্থীরা

এম জেড মাহমুদ / ২৩ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

  1. রায়পুরে বিদ্রোহীদের চাপে নৌকার প্রার্থীরা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে বেসামাল হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে পরাজয়ের শঙ্কায় রয়েছেন রায়পুর উপজেলার কেরোয়া, সোনাপুর, চরপাতা, ১ নম্বর চরআবাবিল ও ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকার পাঁচ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের। দলের বাইরে সিদ্ধান্ত অমান্য করে ৪ জন নেতা-কর্মী ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে লড়াই করছেন। রায়পুর ১০টি ইউপির মধ্যে তিনটি ইউনিয়নের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ১০টি ইউপিতে নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর।

৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতা ও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই ব্যক্তিকে দু’ইবার ও তিন বার করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূলে ক্ষোভ দানা বাঁধবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতির প্রতি যাদের দুর্বলতা আছে তাদের প্রত্যেকেরই আশা আকাঙ্ক্ষা থাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা প্রচার প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তবে শঙ্কা, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে ৫ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে তাদের প্রচারণায় রয়েছে মন্থর গতি। কেরোয়া, চরআবাবিল ও চরংবশী এই তিনটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দুলাল হাওলাদার, আব্দুর রশিদ মোল্যা ও বাবুল পাটোয়ারীদের প্রচারণায় কোণঠাসা অবস্থায় আওয়ামী লীগ দলীয় নৌকা প্রতীকের তিন প্রার্থীরা।

এর মধ্যে ১ নম্বর চরআবাবিল ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদ উল্যা এখনো প্রচারণায় সেভাবে নামতে পারেননি। এদিকে ওই ইউনিয়নে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রশিদ মোল্যা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়াও সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সোহাগ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় নৌকার প্রার্থী ইউসুফ জালাল কিসমত। কেরোয়া ও চরপাতা ইউনিয়নেও একই অবস্থা। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই ৫টি ইউনিয়নের বিদ্রোহী প্রার্থীর বিজয় হাতের নাগালে রয়েছে। অপেক্ষা শুধু ২৮শে নভেম্বর ভোটের দিন পর্যন্ত। সর্বোপরি নিজ দলের বিদ্রোহীদের চাপে রায়পুর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৫ ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীদের বিজয় অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন বলেন, আমরা বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট করছে নৌকার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রায়পুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হারুন মোল্লা বলেন, ভোট নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউপিতে নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর। তবে এবার উপজেলার কোনো ইউনিয়নে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর