বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা কালো রংয়ের চাল

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩০ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২১

দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠে কালো রঙের ক্ষেতটি সবার আগেই নজরে আসে। কৌতূহল জাগানিয়া ক্ষেতটি ‘ব্ল্যাক রাইস’ জাতের ধানের। এই ধানের চালের রংও কালো। অত্যন্ত পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ‘ব্ল্যাক রাইস’ জাতের এ ধান চাষে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিন কৃষক।

হেমন্তের বাতাসে ক্ষেতজুড়ে কালো রঙের অদ্ভুত রকমের ঢেউ। এই রং আর ঢেউ যে কারও দৃষ্টি কেড়ে নেবে। কালো রঙের ক্ষেতটিতে চাষ হওয়া ধানের নাম ‘ব্ল্যাক রাইস’। এবারই প্রথম মাগুরার মহম্মদপুরে এ নতুন জাতের ধান চাষ করেছেন তিন কৃষক। এ ধানের আবাদে কাংখিত সাফল্যেরও আশা দেখছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জাতটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে একদম নতুন। কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া বিনামূল্যের বীজ ও সার দিয়ে উপজেলার নাওভাঙ্গা গ্রামের শাহাবুদ্দিন আহমেদ লিটন দুই বিঘা, ঘুল্লিয়া গ্রামের দাউদ আলী দুই বিঘা এবং চরপাড়া গ্রামের মাসুদ শেখ এক বিঘা জমিতে ব্ল্যাক রাইস আবাদ করেছেন। এ ধান চাষ করে তারা সাড়া ফেলে দিয়েছেন গোটা উপজেলায়। তাদের ধান ক্ষেত দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু কৃষক যাচ্ছেন।

ব্ল্যাক রাইস চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য ধান আবাদের মতোই। অতিরিক্ত সার-কীটনাশক এবং সেচের দরকার পড়ে না। অতিরিক্ত যত্ন পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য ধান চাষের তুলনায় বেশ দামি ও দুর্লভ স্ন্যাক রাইস চাষ করে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

ঘুল্লিয়া গ্রামের চাষি দাউদ আলী বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় দুই বিঘা জমিতে এই কালো ধান চাষ করেছি। আশানুরূপ ফলন পেলে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে এ ধান আবাদ করব।’

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘মূলত এসব জাতের ধানের রং সোনালি বা কালচে হয়। তবে এই চাল একেবারে কুচকুচে কালো। এই চালে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। ব্ল্যাক রাইস-এ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। এ চাল অনেক উপকারী।’

পুষ্টিসমৃদ্ধ এ চাল কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।


এই বিভাগের আরো খবর