রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি

জহির উদ্দিন মাহমুদ / ৩৯ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২১

গত এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুরের বাজারগুলোতে চাল, ময়দা ও তেলের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে মসুর ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ, হলুদ, মুরগিসহ বিভিন্ন মসলার দাম।
লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ                      বাজার,তেওয়ারীগঞ্জ বাজার, চন্দ্রগঞ্জ বাজার, মান্দারী বাজার, জকসিন বাজার, দালাল বাজার, রাখালিয়া বাজার, তোরাবগঞ্জ বাজার, করইতোলা বাজার, রায়পুর বাজার, হায়দার গঞ্জ বাজার, হাজিরহাট বাজার, করুণানগর বাজার, জমিদার হাট বাজার, রামগঞ্জ বাজার, সোনাপুর বাজারে বেড়েছে  পণ্যের দামে।
গত এক সপ্তাহে সরু চালের (মিনিকেট, নাজির) দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ফলে এখন প্রতি কেজি মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৭ টাকা। সরু চালের পাশাপাশি মাঝারি মানের বা পাইজাম ও লতা চালের দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি পাইজাম ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৬ টাকায়।
গত এক সপ্তাহে সব থেকে বেশি বেড়েছে খোলা ময়দার দাম। এক সপ্তাহে ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি খোলা ময়দা এখন ৪২-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে প্যাকেট ময়দাও। ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেড়ে প্যাকেট ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। তবে কিছুটা কমেছে প্যাকেট আটার দাম। ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে প্যাকেট আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪-৪০ টাকায়।
গত এক সপ্তাহে লুজ ও বোতলের সব ধরনের সয়াবিন তেল এবং পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। লুজ সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৬ টাকার মধ্যে। বোতলের ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ৬৮০ থেকে ৭২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে বোতলের এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৫-১৫৫ টাকায়।

লুজ পাম অয়েলের দাম ২ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে। পাম সুপারের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এতে প্রতি লিটার সুপার পাম এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৮-১৩৫ টাকায়।
তেলের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে মসুর ডাল এবং দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মাঝারি দানার মসুর ডালের দাম ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৮ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে কেজি ৪৫-৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১২ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে কেজি ৪০ দশমিক ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

আমদানি করা রসুনের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এতে প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়। এর সঙ্গে বেড়েছে দেশি ও আমদানি করা শুকনা মরিচের দাম। এক সপ্তাহে দেশি শুকনা মরিচের দাম ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০-২০০ টাকায়। আমদানি করা শুকনা মরিচের দাম ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৩০০ টাকায়।

দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে দেশি হলুদ, আমদানি করা আদা, এলাচ, ধনে ও ব্রয়লার মুরগি। দেশি হলুদের দাম গত এক সপ্তাহে ২ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে কেজি ২২০-২৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ছোট এলাচের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর মাধ্যমে প্রতি কেজি এলাচের দাম হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকা। ধনেগুঁড়ার দাম ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।
অন্যদিকে দেশি আদা ও ডিমের দাম কমেছে। দেশি আদার দাম ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায়।
দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারনে মধ্যবিত্ত ও দিনমজুর মানুষেরা খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তারা এ ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।


এই বিভাগের আরো খবর