মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

আফগান ভূ-রাজনীতির ধাক্কা বাংলাদেশেও লাগবে’

জহির উদ্দিন মাহমুদ / ৬ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আফগান ভূ-রাজনীতির ধাক্কা বাংলাদেশেও লাগবে’

ভূ-রাজনীতিতে মাঝে মাঝেই কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়া ও আফগানিস্তান এ অঞ্চলের সবচেয়ে আলোচিত মানচিত্র। গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে ক্ষমতার পালাবদল এবং আগস্টে কাবুল পতনের পর বোঝা যাচ্ছে যে, এশিয়ার এই অঞ্চলটি ভূ-রাজনীতির নতুন ‘থিয়েটার’ হয়ে পড়েছে।

এর প্রভাব বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে অনুভূত হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে টেনশন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে স্বার্থের টানাপড়েন যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে অবধারিতভাবে এর পরিণতি সংঘাতের দিকে যাবে।

আফগান ও মিয়ানমার পরিস্থিতি

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দু’টি বিরোধপূর্ণ জায়গার একটি হচ্ছে মিয়ানমার, যেখানে সংঘাতের মাত্রা কম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু বড় আকারের ঝামেলার জায়গা হচ্ছে আফগানিস্তান।’

তিনি বলেন, ‘সেই হিসেবে বলা যায়, এটি হচ্ছে ভূ-রাজনীতির একটি নতুন থিয়েটার।’

শহীদুল হক জানান, আফগানিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অবস্থানগত দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ার মাঝখানে অবস্থান করছে। আফগানিস্তানের একদিকে রয়েছে পাকিস্তান, অপরদিকে ইরান। একপাশে চীন এবং আরেক দিকে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কিরগিজস্তান। এই দেশগুলো আগে সোভিয়েত রাশিয়ার অংশ ছিল বলে তিনি জানান।

সাবেক এই পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘ওই দেশে যা হচ্ছে আঞ্চলিকভাবে, তার কিছুটা প্রভাব বাংলাদেশের ওপরেও  আসবে।’

তালেবান সমস্যা

বহির্বিশ্বের কাছে তালেবানদের একটি পরিচয় রয়েছে। সেটি হচ্ছে উগ্রবাদে বিশ্বাসী পশ্চিমাবিরোধী শক্তি।  এই পরিচয় নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা খুবই কঠিন।

শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা যদি দেখি কাতার ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ তালেবানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু সৌদি আরব এখনও কোনও যোগাযোগ করছে বলে জানা যায় না।’

তিনি মনে করেন,স্বল্প সময়ের জন্য বর্তমান অবস্থা হয়তো ঠিক আছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতার জন্য সবাইকে প্রয়োজন হবে তালেবানদের।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এটি বলা মুশকিল।’

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থ ও বৃহৎ বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে (আফগানিস্তান) পশতুন, হাজারা, উজবেকসহ বিভিন্ন জাতির মানুষ বাস করে। তবে কেউ কারও অধীনে নয়। এই অবস্থায় একটি জাতীয় সরকার তালেবানরা গঠন করতে পারবে কিনা, সেটি আগামী দিনগুলোতে পরিষ্কার হবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই অঞ্চলে পাকিস্তান, ভারত, ইরান, চীন, রাশিয়া ও রাশিয়া থেকে বের হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রগুলো, ক

চিনির দাম নির্ধারণ করে দিলো সরকার

সরকার চিনির দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে পরবর্তী আদেশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কেজি খোলা চিনি ৭৪ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৭৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মিলমালিকদের বৈঠকে এ দাম নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে চিনি উৎপাদনকারী সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, দেশবন্ধু গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, এই সিদ্ধান্ত আগামীকাল শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি খুচরা বাজারে প্রতিকেজি খোলা চিনি ৮০ টাকা এবং প্রতি কেজি প্যাকেট চিনির দাম ৮০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সংসদীয় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে: স্পিকার

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সংসদীয় কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‌‘সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে জনগণের জীবনমানের উন্নয়নে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও সুশাসন সমুন্নত করে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সংসদীয় কার্যক্রম গতিশীল ও জোরদার করতে হবে।’

বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর উদ্যোগে এবং জাতিসংঘ ও অস্ট্রিয়ান পার্লামেন্টের সহযোগিতায় অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স অব স্পিকার্স অব পার্লামেন্ট-এর ‘‌পার্লামেন্টস অ্যান্ড গ্লোবাল গভার্নেন্স: দ্য আনফিনিসড এজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনায় স্পিকার এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের বদরুদ্দোজা মো. ফরহাদ হোসেন, রুমানা আলী এবং গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

স্পিকার বলেন, ‘‌বিভিন্ন দেশের সংসদসমূহের সমন্বয়ের মাধ্যমে বহুপাক্ষিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন, অসমতা, লিঙ্গ বৈষম্য, গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দেশগুলোর মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সংসদীয় কূটনীতি ভূমিকা রাখছে এবং আইপিইউ ও জাতিসংঘ এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। সংসদীয় কূটনীতি তথা আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের বিরাজমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।’

আলোচনা অনুষ্ঠানে আর্মেনিয়া ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির চেয়ারম্যান এলেন সিমোনিয়ান, ভারত লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা, বুরুন্ডির সিনেট স্পিকার ইমানুয়েল সিঞ্জোহাগেরা, মন্টেনিগ্রো সংসদের স্পিকার এলেস্কা বেসিস প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

কিছু লোক আশ্রয়ণের ঘর ভেঙে মিডিয়ায় প্রচার করেছে:  প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু লোক মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে তৈরি করা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর হাতুড়ি-শাবল দিয়েছে ভেঙে তা মিডিয়ায় প্রচার করেছে। তিনি জানান, যারা ঘর ভেঙেছে তাদের নামের তালিকাসহ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো যখন সিদ্ধান্ত নিলাম‑ প্রত্যেকটা মানুষকে আমরা ঘর করে দেবো, কিন্তু দেশের কিছু মানুষ এতো জঘন্য চরিত্রের, কয়েকটা জায়গায় হঠাৎ দেখলাম‑ ঘর ভেঙে পড়ছে, কোনও কোনও জায়গায় ভাঙা। এসব দেখার পরে সার্ভে করালাম‑ কোথায় কী হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রায় দেড় লাখের মতো ঘর তৈরি করে দিয়েছি। এরমধ্যে ৩০০টা ঘর ভেঙেছে। বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষ গিয়ে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে সেগুলো ভেঙে মিডিয়ায় ছবি তুলে দিচ্ছে। তাদের নাম-ধাম অনুসন্ধান চালিয়ে বের করা হয়েছে। আমার কাছে পুরো রিপোর্টটা আছে। গরিবের জন্য করে দেওয়া ঘর কারা এইভাবে ভাঙতে পারে, ছবিগুলো দেখলে বুঝা যায়।’

ঘর ভেঙে পড়ার পেছনের কারণ মিডিয়া অনুসন্ধান করেনি অভিযোগ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘মিডিয়া এগুলো ধারণ করে প্রচার করে। কিন্তু তারা এটা কিভাবে হলো সেটা বের করে আনে না।’

তদন্তে ৯টি জায়গায় দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েকটা জায়গায় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছি। যেমন এক জায়গায় ৬০০ ঘর, সেখানে প্রবল বৃষ্টিতে মাটি ধসে ৩/৪টি ঘর নষ্ট হয়েছে। মাত্র ৯টা জায়গায় কিছুটা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি‑ প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। যাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলাম ইউএনও-ডিসিসহ সব কর্মচারী, অনেকে নিজেরা এগিয়ে এসেছে ঘরগুলো তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘যারা ইট তৈরি করে তারাও এগিয়ে এসেছে, অল্প পয়সায় ইট দিয়েছে। এভাবে সবাই সহযোগিতা করেছে, আন্তরিকতা দেখিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে কিছু দুষ্টু বুদ্ধির লোক আছে‑ এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টকর, যখন এটা গরিবের ঘর তারা সেখানে হাত দেয় কিভাবে।’

নেতা-কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের আরও সর্তক থাকার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাই হোক আমরা সেগুলো মোকাবিলা করেছি। তবে আমাদের নেতা-কর্মীদের এ ব্যাপারে আরও সর্তক থাকা দরকার।


এই বিভাগের আরো খবর