শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:১৫ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বিশেষ প্রতিনিধি / ৫৬ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

 

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলায় হঠাৎ অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে। দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফসলের মাঠ, ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে। কমলনগরের চরমার্টিন এলাকায় একটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে পূর্ণিমার প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে নদীর পানি বেড়ে যায়। রামগতি-কমলনগর উপজেলায় মেঘনানদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ায় জোয়ার এলেই গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ -৭ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। রামগতির উপজেলার বিচ্ছিন্ন চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন তেলির চর, উত্তর চর আবদুল্লাহ, চর গাসিয়া ও চর মোজ্জামেল এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট ও বাড়ির উঠান ডুবে বসতঘরে পানি উঠে। পানিবন্দি হয়ে কয়েক হাজার মানুষ কষ্ট পোহাচ্ছে।

চরআব্দুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন মঞ্জু জানান, তেলিরচর বাজার, কামাল বাজার ও চেয়ারম্যান বাজার সহ তার ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।এছাড়াও রামগতি উপজেলার মেঘনার ভাঙন কবলিত বালুর চর, চর আলেকজান্ডার, সুজনগ্রাম, গাবতলী, চর আলগী, চর গোঁসাই, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী, চরগজারিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, কমলনগরে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ না থাকায় উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়ন, সাহেবেরহাট ইউনিয়ন, চর মার্টিন ইউনিয়ন, চর ফলকন ইউনিয়ন ও পাটারিরহাট ইউনিয়নের মেঘনা উপকূলীয় এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

চরমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী মিয়া ও চরকালকিনি ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার সাইফুল্লাহ জানান, চরমার্টিন ও চরকালকিনি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা ও কাঁচা ও পাকা সড়ক জোয়ারের তোড়ে ভেঙে গেছে। এতে মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে রয়েছেন চলাচলকারীরা।

এদিকে জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ছুটে গিয়েছেন কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জুমান।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে ইউএনও বলেন, হঠাৎ জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফসলি জমি প্লাবিত হওয়া সহ রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বহু মানুষের ঘরবাড়ি পানি বন্দি রয়েছে। ইতোমধ্যে আমি (ইউএনও) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি।পানি বন্দি মানুষের জানমাল রক্ষার্থে উপকূলের নিরাপদ আশ্রয়নে আসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন বলে ও জানিয়েছেন।

 


এই বিভাগের আরো খবর