মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামী  আটক

বিশেষ প্রতিনিধি / ১৪৮ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামী  আটক

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেন আমার স্বামী আবদুল বাকেরকে মিথ্যা অভিযোগে থানায় আটকে রেখেছে। মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে জেলা শহরে একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার পিআইও’র বিরুদ্ধেএ অভিযোগ করেছেন।

এদিকে পুলিশ বলছে থানা থেকে বাকেরসহ ৪ জনকে পিআইও ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। তবে বাকেরের স্ত্রী শারমিন জানিয়েছেন, তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, রিয়াদ রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তিনি কমলনগর উপজেলার শূন্যপদে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

ভূক্তভোগী বাকের কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর। এছাড়া একই কার্যালয়ে কর্মরত মেহেদি হাসান ও আলমগীরসহ ৩ জন থানায় আটক রয়েছে। কার্যালয় থেকে ১৬ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ এনে পিআইও রিয়াদ তাদেরকে সোমবার রাতে থানায় নিয়ে আটকে রেখেছেন। তবে থানা পুলিশ বলছে এখনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয়নি পিআইও।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, পিআইও রিয়াদ কমলনগরে দায়িত্ব পাওয়ার পর একদিন স্বামী বাকেরের সঙ্গে দেখা করতে তিনি কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ের পেছনেই সরকারি কোয়ার্টারে তারা থাকেন। ওইদিন দেখার পর থেকেই পিআইও বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজী না হওয়ায় তার স্বামীকে সদর উপজেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। ১১ মাস পর ফের তার স্বামী কমলনগরে যোগদান করে। কিন্তু পিআইও কাজ বুঝিয়ে দেয়নি। সোমবার ১৬ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে পিআইও রিয়াদ তার স্বামীসহ ৪ জনকে পুলিশের সহযোগীতায় থানায় আটকে রাখে। এরপর সন্ধ্যায় বাসায় এসে পিআইও নিজেই আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে রিয়াদ তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মূলত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ এনে তার স্বামীকে পিআইও থানায় আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

উপজেলা কার্যালয়ের কয়েকজনের ভাষ্যমতে, পিআইও’র কার্যালয়ে নগদ টাকা থাকার কথা নয়। তিনি ঠিকাদারদের টাকা চেকের মাধ্যমে দেবেন। টেন্ডারের পে-অর্ডারও চেকের মাধ্যমে। তাহলে তার কার্যালয়ে ১৬ লাখ টাকা কোথায় থেকে আসলো? আর টাকাগুলোও কিসের? যার জন্য এখনো তিনি পরিস্কারভাবে কোন অভিযোগ করতে পারছেন না। উল্টো ৪ জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।

একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ ব্যক্তি জানিয়েছেন, জুন ক্লোজিং উপলক্ষে পিআইও তাদের কাছ থেকে কমিশন নিয়েছেন। তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। ঘুষের এ ১৬ লাখ টাকা নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিল দেওয়ার কথা। দুদকের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

দুপুর ২টার দিকে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, পিআইও নিজেই সোমবার রাতে তার ৪ কর্মচারীকে থানায় নিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার দুপুরে পিআইও নিজেই আবার তাদেরকে নিয়ে গেছে। কার্যালয় থেকে কিছু টাকা চুরির হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনি কর্মচারীদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে কত টাকা তা জানায়নি। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগও করেনি।

তবে দুপুর ২ টা ৭ মিনিটে শারমিন আক্তার বলেন, সারারাত আমার স্বামী থানায় ছিল। এখন কোথায় আছে আমি জানি না। আমার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাসেল ইকবাল বলেন, অফিসিয়ালভাবে ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। তবে আমি অন্য মাধ্যমে শুনেছি।

এ ব্যাপারে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি পিআইও কার্যালয়ের নিজস্ব ব্যাপার। শুনেছি ৪ জনকে থানায় ডাকা হয়েছে। তবে কি কারণে তা আমি বিস্তারিত জানি না। পিআইও আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি।


এই বিভাগের আরো খবর