শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলে ভাঙন

জহির উদ্দিন মাহমুদ / ১৪৩ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপকূলে আঁচড়ে পড়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এতে রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশি, উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম এবং কমলনগর উপজেলার মতিরহাট, চরমার্টিন, নাসিরগঞ্জ, নবীগঞ্জ, কালকিনি ও রামগতির চরগাজী ও চর আবদুল্লাহসহ মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা যায়। এসব এলাকার অন্তত ২০টি কাঁচা ও পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার (২৬ মে) এ দুইদিন মেঘনার ঢেউয়ের আঘাতে কমলনগরের নাসিরগঞ্জবাজার এলাকার প্রায় ৫০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে গাছপালা। নদীতীরবর্তী অসহায় মানুষের হতাশাজনক চাহনি শুধু মেঘনার দিকেই ছিল। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জোয়ারে অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি ছিল। এ সময় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামগুলোর বাসিন্দা।

এদিকে, ইয়াসের প্রভাবে মেঘনা উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। তবে ইয়াস তেমন কোনো আঘাত হানেনি। এসব এলাকার কোনো মানুষও আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি। সবাই নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করেছেন। গৃহপালিত পশুপাখিও আগের অবস্থানেই ছিল।

মেঘনার ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তারা এখন অদম্য সাহসী। তাদের মাঝে আতঙ্কও নেই। নাসিরগঞ্জ এলাকায় কয়েকজন শিশুকে দেখা যায় নদীতে ভেসে আসা প্লাস্টিক কুড়িয়ে নিতে। তখনো নদীর প্রবল ঢেউ আঁচড়ে পড়েছে উপকূলে। ইয়াসের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাসহ পুরো জেলায় প্রবল বাতাস বইছে।

অন্যদিকে এ দূর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে জেলাব্যাপী ১০৯টি সাইক্লোন শেল্টার ও ১০০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ও পরে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৬৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার চেষ্টাও করা হয়েছে।

কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক রাকিব হোসেন সোহেল বলেন, ইয়াসের প্রভাবে মেঘনা উত্তাল হয়ে উপকূলে ভাঙন বাড়িয়ে দিয়েছে। দ্রুত নদী ভাঙন রোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অতীতের মতো এসব এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, দুই-তিনটি বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়। এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের দ্রুত বাঁধ সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পানিবন্দি দেড় শতাধিক পরিবারে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মোমিন বলেন, মেঘনার জোয়ারে কিছু রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া তেমন বেশি প্রভাব রামগতিতে পড়েনি। প্রায় ৩০০ পরিবারে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, মেঘনা নদী সংলগ্ন গ্রামগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকে বসতঘরে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে-ক্ষতিগ্রস্থদের শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। আরো সহায়তা দেয়া হবে তাদের।।

জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে লক্ষ্মীপুরে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রচারণা চালানো হয়েছে নিরাপদ স্থানে সরে আসার জন্য। একইসঙ্গে মেঘনা তীরবর্তী বাসিন্দাদের জন্য দুর্যোগ মুহূর্তে ২৭৯ মেট্টিক টন চাল, নগদ ২৪ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য ৯ লাখ ও গোখাদ্যের জন্য ১৩ লাখ টাকা মজুত রাখা হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর