শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরে স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার, ৩ জনের জরিমানা

বিশেষ প্রতিনিধি / ১৪৪ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

করোনা সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে যাত্রী পারাপারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার (১০ মে) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার মজু চৌধুরীরহাট মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নে লক্ষ্মীপুর-ভোলা-বরিশাল লঞ্চঘাট অবস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল ওই ঘাটের ইজারাদার। সরকারি নিষেধাজ্ঞাকালীন তার লোকজনই অবৈধভাবে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করে। ঈদকে সামনে রেখে মজু চৌধুরীরহাট ঘাটে যাত্রীদের ভিড় থাকে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতের অন্ধকারে ইউছুফ ছৈয়ালের লোকজন যাত্রী পারাপারে ব্যস্ত থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এতে প্রত্যেক যাত্রী থেকে ৪০০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন, আনোয়ার হোসেন, আবু তাহের ও শাওন আহমেদ। তারা ভোলা ও বরিশালের বাসিন্দা।

করোনা সংক্রমণরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মেঘনায় অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ-রুট মেঘনা নদী হয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ ২১ জেলার সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। ঈদসহ সরকারি বিভিন্ন ছুটিতে এ রুটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। ঈদের সময় এ রুটে ফেরি ও লঞ্চের সংখ্যাও বাড়ানো হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে এবার নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে। পণ্যবাহী যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ফেরি চললেও যাত্রী নেয়া বন্ধ রয়েছে। কিন্তু অবৈধভাবে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে একটি সিন্ডিকেট ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও স্পিডবোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করছে।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মজু চৌধুরীরহাট ফেরিঘাট-লঞ্চঘাটসহ মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক আনোয়ারকে ১৫ হাজার টাকা, আবু তাহেরকে ১৫ হাজার ও শাওনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একটি ইঞ্জিন চালিত জব্দ করা হয়েছে। নৌকার মাঝি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আবু ইউছুফ ছৈয়াল বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অভিযানে আমিও ছিলাম। আমার লোকজন হলেতো অভিযানে থাকতাম না। আর লঞ্চঘাটেই নৌকা থাকতো। নদীর বিভিন্ন এলাকা দিয়ে একটি সিন্ডিকেট যাত্রী পারাপার করছে। এতে আমি কিংবা আমার লোকজন জড়িত নই।


এই বিভাগের আরো খবর