শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

কমলনগরে মরা খাল থেকে বেকু দ্বারা মাটি উত্তোলন

বিশেষ প্রতিনিধি / ২৫৬ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১

কমলনগরে মরা খাল থেকে বেকু দ্বারা মাটি উত্তোলন

লক্ষ্মীপুর কমলনগর সরকারী খাল থেকে বেকু দ্বারা মাটি উত্তোলন করছে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মহল।

রবিবার (৪ এপ্রিল) সরেজমিন অনুসন্ধাকালে দেখা যায়, উপজেলার সাবেক চরফলকন বর্তমান পাটারীরহাট ইউনিয়নের খাঁয়েরহাট বাজারে জনৈক বাহাদুর মিয়া নামীয় ব্যাক্তি সরকারী মরা খাল থেকে বেকু দ্বারা কয়েকদিন থেকে মাটি উত্তোলন করেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, খালটির দুই পাড় ভেঙ্গে বড়দীঘিতে পরিণত হয়েছে। ওই দীঘির পূর্ব পাশে সরকারী বেড়ী এবং উত্তর পাশে এলজিইডির পাকা সড়ক রয়েছে। অনুমতি ছাড়াই এ দীঘিতে মাছ চাষ করেছে দুই প্রভাবশালী বাহাদুর ও মনির। এতে করে এলজিইডির নির্মাণাধীন সড়ক ও বেড়ীর রাস্তার মধ্যভাগ পর্যন্ত ভেঙে দীঘিতে বিলীন হচ্ছে। এবারে বর্ষায় বেড়িটি সম্পূর্ণ অংশ দীঘিতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে জনভোগান্তি চরম আকার ধারন করবে। এরই মধ্যে বাহাদুর বেকু দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছে। ফলে ভাঙনের তীব্রতা আরো ভয়াবহরূপ ধারণ করবে। তারা জানান, খালটিতে প্রায় ১২একর ৭৬শতাংশ সরকারের খাস জমি। বন্দোবস্ত দিলে এখান থেকে সরকার ব্যাপক রাজস্ব আদায় করতে পারত। কিন্তু বিগত দিনে এ ব্যাপার স্থানীয় তহসিলদার সহ উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলেও এ পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।বর্তমানে এ খাল ভেঙ্গে দীঘিতে পরিণত হয়েছে। কয়েকবছর আগে এ খাল দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে খালের পানি চলাচলে বাধাগ্রস্থ হয়। ফলে এটি দীঘি বা মরা খাল হিসেবে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত।

কমলনগর উপজেলার সাবেক চরফলকন বর্তমান পাটারীরহাট ইউনিয়নের ৫৭/১৭নং পূর্ব চরফলকন মৌজার ৪০৮২ দাগে ১২একর ৭৬শতক ভূমি রকম নাল দিয়ারা জরিপে ১নং খাস খতিয়ানে মরা খালটি রেকর্ড হয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান এ কে এম নূরুল আমিন রাজু’র বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামনে আমার নির্বাচন এ বিষয়ে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবনা। স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার কথা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

বেকু দ্বারা মাটি উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বাহাদুর জানান, এ দীঘিতে আমরা মাছ চাষ করে আসছি। মাটি তুলে দীঘির আড়া সংস্কার করছি। এ ছাড়া মরাখালে তাদের সম্পত্তি আছে বলে তিনি দাবী করেন।

চরফলকন পাটারীরহাট ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জানান,৫৭/১৭নং পূর্ব চরফলকন মৌজার দিয়ারা জরিপে ৪০৮২ দাগে রকম খাল হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। পরবর্তীতে এ খাল ভেঙ্গে বড়দীঘিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, খাল বন্দোবস্ত দেয়া যায়না, তবে এখানকার কিছুলোক খাল ভেঙ্গে দীঘি হওয়ায় তাদের মালিকানা জমিন দাবী করে রেকর্ড করেছে। ছাপা খতিয়ান আসলে সরকারী জমি অবৈধ দখলদারদের কবল হতে উদ্ধার করা যাবে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,এ্যাসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরো খবর