শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরে মুজিববর্ষে নতুন ঘর পাচ্ছেন ভূমিহীন ১৮৫টি পরিবার

জহির উদ্দিন মাহমুদ / ২৬৫ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২১

লক্ষ্মীপুরে মুজিববর্ষে নতুন ঘর পাচ্ছেন ভূমিহীন ১৮৫টি পরিবার

আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার অঙ্গীকার। এই পতিপাদ্যকে সামনে লক্ষ্মীপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সেরর মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের নতুন ঘর দেওয়ার আয়োজন করা হয়।

কায়িক শ্রম শেষে এখন আর অন্যের ঘরে ফেরা নয়।  ভূমিহীন ও গৃহহীন হ্নতদরিদ্র কদবানু এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া নিজ ঘরে থাকতে পারবেন।
কদবানু মত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া স্বপ্নের বাড়ি উপহার।
প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬৫টি পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে নতুন বাড়ি। এছাড়া চররমনি মোহন ইউনিয়নের জান্নাতুল মাওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ২৪টি ব্যারাকের ১২০টি পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর।

শনিবার ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশে একযোগে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারদের নতুন বাড়ি হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মাসুম সুন্দর করে সাজিয়েছেন।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের বিনা টাকায় ঘর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুরেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের -২ আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের মাঝে নতুন ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে।

নতুন ঘর পাওয়া এসব ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষগুলোর চোখে মুখে এখন অনাবিল স্বপ্ন। বাড়ি পাওয়ার আনন্দে জান্নাতুল মাওয়ার ভূমিহীন ছালেহা বেগমের চোখ যেন জলে ভরে গেছে । ‘নতুন ঘর ও জমি পেয়ে কেমন লাগছে?’ জিজ্ঞেস করায় ছালেহা বেগম বলেন , ‘আমি আগে পরের ঘরে থাকতাম, প্রধানমন্ত্রীর উছিলায় এখন আমি ঘর পেয়েছি, স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে আমি জমিসহ ইটের একখানা নতুন ঘর পাবো।এই বয়সে ইটের ঘরে থাকতে পারবো। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর পেয়ে। দোয়া করি শেখ হাসিনা হাজার বছর বেচে থাকুক।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় লক্ষ্মীপুরে প্রতিটি ঘরের জন্য দুই শতাংশ খাসজমির বন্দোবস্তসহ দুই কক্ষের সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘরের প্রত্যেকটিতে একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ৬৫টি ও
জান্নাতুল মাওয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ২৪টি ব্যারাকের ১২০টি পরিবার পেয়েছে নতুন ঘর। রামগতি উপজেলায় ৯০টি, কমলনগর উপজেলায় ২০টি, ও রায়পুর উপজেলায় ২০টি পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়া হয়েছে।
এসময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহাজাহান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপু প্রমূখ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মোঃ গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারন সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, হুমায়ুন কবির, মাহবুবুল আলম,ও আজাদ ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথি বলেন,
চমৎকার পরিবেশে মানসম্মত টেকসই এসব ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের নিজস্ব কোন জমি বা ঘরবাড়ি ছিলনা। তাদের অনেকেই রাস্তার ধারে বা কারো আশ্রয়ে বসবাস করতেন। তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার পেলেন। এর ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নাই ; তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি দেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরো খবর