বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুর চররমনীতে সবুজ বাহিনীর অত্যাচারে গ্রাম ছাড়া কৃষক পরিবার

বিশেষ প্রতিনিধি / ৪৯১ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১

পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে না পারায় গ্রাম ছাড়া করলেন নূর মোহাম্মদ নামীয় একটি কৃষক পরিবারকে। এর আগে ওই পরিবার থেকে মুক্তিপনসহ দফায় দফায় চাঁদার টাকা আদায় করেছে বাহিনীর প্রধান সবুজ। এছাড়া চাঁদাবাজি, গরুচুরি, পল্লী বিদ্যুতের দালালী, চরাঞ্চলের ভূমিহীন মানুষের বন্দোবস্তীয় নথির জমি দখল, নিরীহ মানুষের প্রতি অন্যায় অবিচার সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে সবুজের বিরুদ্ধে। আদালতে ও থানায় রয়েছে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা।

লক্ষ্মীপুর সদরের চর রমনীমোহন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আমির হোসেনের পুত্র ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি সবুজ।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, জেলা সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ পেশায় জেলে ও কৃষক। নদীতে মাছ ধরে, চাষাবাদসহ গবাদি পশু পালন করে সংসার চালান তিনি। কিন্তু সবুজের অত্যাচারের ঘুরে দাঁড়াতে পারছেনা পরিবারটি। বিভিন্ন সময় নদীতে জাল ফেলতে ৪৫ হাজার টাকা, গরু আটক রেখে ৮হাজার টাকা, কন্যার জামাতাকে আটক করে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপন আদায় করে নেয় সবুজবাহিনী। অত্যাচারের মাত্রা এখানেই শেষ নয়, এবারের দাবী ছিল পঞ্চাশ হাজার টাকা। কৃষক নূরমোহাম্মদ যখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে দাবীকৃত চাঁদা দিতে পারেনি মারপিট করে গ্রাম ছাড়া করল তার পুরো পরিবারকে। ৪ ছেলেসহ তারা ৫ জন স্থানীয় বায়তুস সাইফ দরবার শরীফে এবং স্ত্রী কন্যারা অন্যস্থানে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নূরমোহাম্মদ জানান, সবুজবাহিনীর অত্যাচার ও চাঁদা আদায় থেকে মুক্তি পেতে চাই। তার ভয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ী ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
ন্যায় বিচার পেতে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সবুজ সহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। মামলা নং সি.আর ৭৩৮/২০। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ১৪৭, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারা। তিনি জানান, সবুজের হামলার ভয়ে কাজকর্ম বন্ধ করে অর্থে কষ্টে জর্জরিত হয় এলাকা ছেড়ে স্থানীয় বায়তুস সাইফ দরবার শরীফে আশ্রয় নিয়েছি। স্ত্রী-কন্যারা অন্য জায়গায় বসবাস করছে। প্রায় দিন সাইফিয়া দরবার শরীফের সামনে এসে সবুজ ও তার লোকজন আমাদেরকে ধরে নিতে ওঁৎপেতে থাকে বলে জানান।

খোরশেদ আলম নামীয় এক ব্যক্তি জানান, চররমনী মোহন ইউনিয়নে চরমেঘায় আমার মালিকীয় দখলীয় ফসলীয় জমিতে সবুজ তার বাহিনী নিয়ে ট্যাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে। আমি বাধা দিলে চাঁদা দাবী করে। পরে তিনি এ ব্যপারে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় অভিযোগ করেন বলে জানান।

আবদুল গোফরান পাটওয়ারী জানান, আমাদের ট্রাক্টর দিয়ে জনৈক ব্যক্তির জমিন চাষ দিতে গেলে সবুজ আমার থেকে বিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। বিষয়টি তিনি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফকে জানালে সবুজ চেয়ারম্যানের বাধা নিষেধ মানেনা। চাঁদার দাবী অনঢ় থাকায় পরবর্তীতে ভাড়া চুক্তিতে ওই জমিন চাষ দিতে পারেনি বলে তিনি জানান।

চররমনী মোহন ইউপির ৪নং ওয়ার্ড গিয়াস উদ্দিন মুন্সীর গোঁজা পল্লী বিদ্যুৎতের কয়েকজন গ্রাহক জানান, বিদ্যুতের প্রতিটি মিটার বাবত তাদের কাছ থেকে ৫-৬ হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে যারা সব টাকা পরিশোধ করবেনা তাদেরকে বিদ্যুতের সংযোগ দিবেনা। এ ভাবে সবুজ প্রায় ৫লক্ষ টাকা আত্মাসাৎ করে নিয়েছে বলে জানান।

স্থানীয়রা জানান, তারা দুই ভাই সবুজ ও এমরান। সবুজ ওয়ার্ড যুবলীগের দায়িত্ব পেয়ে পদের অপব্যবহার করে একটি বাহিনী গঠন করে চরাঞ্চলের নিরীহ ভূমিহীন কৃষকের বন্দোবস্তীয় নথির জমি ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে ফসল নষ্ট করে নিজের দখলে নিচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের জিম্মি করে সংযোগ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছে। নিরিহ মানুষে ফাঁদে ফেলে চাঁদা আদায় করেছে, মুক্তিপন নিচ্ছে। এছাড়া বহু অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

অচিরেই এ বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে নিরিহ মানুষগুলো তাদের কাছে জিন্মি হয়ে পড়বে এলাকায় খুনখারাবির মাত্রা বেড়ে যাবে বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।

চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ জানান, সবুজের অনিয়মের বিরুদ্ধে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আমার কাছে অভিযোগ করেছে। তাকে সতর্ক করার পরও সে বাধা নিষেধ মানছেনা। ভূক্তভোগিরা তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ এবং আদালতে মামলা করেছে। নূর মোহাম্মদ নামীয় একটি পরিবার তার ভয়ে এলাকা ছেড়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

লক্ষ্মীপুর সদর পশ্চিম যুবলীগের আহবায়ক তাফাজ্জল হোসেন টিটু চৌধুরী জানান, কেউ দলের পদ ব্যবহার করে কোন অনিয়মের সাথে সম্পৃক্ত পাওয়া গেলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে জানান।

মুঠফোনে সবুজের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে এড়িয়ে যান।


এই বিভাগের আরো খবর