শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে সঞ্চয় সমিতির পরিচালক

বিশেষ প্রতিনিধি / ২৩৩ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২১

অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে সঞ্চয় সমিতির পরিচালক

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ী সঞ্চয় সমিতি বেক্সিমকো গ্রুপের কর্মীরা গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকশ’ সাধারণ মানুষকে মোটা টাকার ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ভুয়া ওই সমিতির কথিত পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন আনুমানিক অর্ধকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে ভুয়া ওই সমিতির অফিসে ঝুলছে তালা। প্রতারকদের খপ্পর থেকে বাদ যাননি ভ্যান চালক, ক্ষুদ্র মুদি দোকানি ও সাধারণ গৃহবধূ।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিজের পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রেখে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি চলতি মাসের ১ জানুয়ারি বানিয়াজুরী এলাকার আব্দুস সালাম মিয়ার বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নেন। মুখের মিষ্টি কথার জালে আকৃষ্ট করে মাত্র ১০-১২ দিনেই কয়েকশ’ নারী-পুরুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলেন। তাদের সমিতির সদস্য করে ব্যবসা করার জন্য জনপ্রতি এক লাখ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার অফার দেওয়া হয়। সমিতিতে বেশ কয়েকজন নারী কর্মী কাজ করছেন। তাদের ব্যবহার করে সাধারণ ও নিরীহ কয়েকশ’ মানুষ তার প্রতারণার জালে জড়ায় ও জামানত বাবদ লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। সর্বনিম্ন ৮ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা করে সদস্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সমিতির পরিচালক ।

বৃহস্পতিবার সদস্যদের মাঝে লোন দেয়ার কথা ছিল। কিন্ত তার আগেই জাহাঙ্গীর বিপুল অঙ্কের টাকা বাগিয়ে এলাকা ছেড়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। তবে প্রতারক জাহাঙ্গীরসহ সহযোগীর কারও নাম ঠিকানাও সদস্যদের জানা নেই। এছাড়া যার বাড়িতে সমিতির অফিস করা হয়, সেই বাড়ির মালিক সালাম মিয়াও জানেন না প্রতারকের আসল ঠিকানা। ভাড়া দেওয়ার আগে যেসব নিয়ম কানুন থাকার কথা তার কোনোটাই বাড়ির মালিক এসব বিষয়ে অবগত হননি। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বাড়ির মালিক সালাম মিয়াকে জিজ্ঞাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেলে জিজ্ঞাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছোট বৈন্যা গ্রামের ভ্যানচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিন চাকার রিক্সাটি রুটি রুজির একমাত্র সম্বল। ধারদেনা করে এক লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার আশায় সমিতিতে নগদ ১০ হাজার এবং বই বাবদ দেড়শ’ টাকা জমা দিয়েছি। এরপর জানতে পারলাম ঋণ না দিয়েই সঞ্চয়পত্রে জমা টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে উধাও হয়ে গেছে এনজিওটি।

ঘিওর উপজেলার ছোট বৈন্যা গ্রামের মুদি দোকানি লুৎফর মোল্লা বলেন, তিন লাখ টাকা লোন দেওয়ার কথায় ৩০ হাজার টাকা জামানত দিয়েছি। ১৪ জানুয়ারি অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার লোন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত বুধবার অফিসে গিয়ে দেখি আমার মতো শতশত মানুষের ভিড়। সমিতির পরিচালক আমাদের সবার টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

কথা হয় সমিতির মাঠকর্মী নিশা রানীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ১০ হাজার টাকা বেতনে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করছিলাম। আমার মাধ্যমে ৬২ জনকে সদস্য বানিয়েছি। দুই লাখ ৮৬ হাজার টাকা তাদের কাছ থেকে তুলে অফিসের পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে তুলে দেই। বৃহস্পতিবার তাদের লোন দেওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীর সাহেব পালিয়ে গেছেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, ঘটনা জানার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আমরা বিভিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি শিগগিরই প্রতারককে আইনের আওতায় আনতে পারবো। এছাড়া যিনি বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন তিনি ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে কোনও ধরনের ডকুমেন্টস রাখেনি। বাড়ি ভাড়া দিতে গেলে অবশ্যই থানাকে অবগত করা প্রয়োজন ছিল। সেটাও তিনি করেননি। আর কার্ডে যে নম্বর লেখা আছে, সে নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।


এই বিভাগের আরো খবর