শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরে চাঞ্চল্যকর কুলছুম হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত পিবিআইতে

চলমান বাংলা ডেক্স / ২৫১ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে চাঞ্চল্যকর শিশু কুলছুম (১০) হত্যা মামলার ঘটনার পুনঃতদন্তের জন্য ‘পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’কে আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন ও আসামী সনাক্ত না করেই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে সিআইডি। এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষের না রাজি আবেদন মঞ্জুর ক্রমে মামলাটি পুনঃতদন্তের আদেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত রামগতি এর বিচারক নুসরাত জামান।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে এ মামলায় লিগ্যাল এইড কর্তৃক নিযুক্ত বাদীপক্ষের আইনজীবি হাছান আল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত শিশু কুলছুম উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নের চর হাসান-হোসেন গ্রামের আবদুল কাদের ও বিবি জাবেদা’র মেয়ে। সে একই ইউনিয়নের গোলাম রহমানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ মে বিকেলে প্রতিদিনের ন্যায় খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন শিশু কুলছুম আক্তার। ৫ দিন পর অর্থাৎ ২০ মে ২০১৭ দুপুরে কুলছুমদের বাড়ী থেকে মাত্র প্রায় ৫০০ গজ দূরে পার্শ্ববর্তী মুরাদ মিয়ার ছাড়াবাড়ী থেকে কুলছুমের টুকরা করা অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই লাশ ময়নাতদন্ত না করে লাশ ফেলে চলে যান রামগতি থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইকবাল হোসেন ও এস আই মোঃ সাইদুর রহমান। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে কুলছুমের পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশের উদ্ধারকারী ব্যাগসহ কুলসুমের টুকরা করা অর্ধগলিত লাশ দাফন করেন।

পরবর্তীতে এ বিষয়টি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশিত হলে এবং কুলছুমের মায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশের লাশ উদ্ধার ও লাশ ফেলে আসার ঘটনা বাদ দিয়ে ওই বছরের ২৪ মে রামগতি থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। তৎকালীন ওসি ইকবাল হোসেন লাশ ফেলে আসা সেই এসআই মোঃ সাইদুর রহমানকেই মামলাটির তদন্তভার প্রদান করেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ও ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে কুলছুমের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয় এবং ভিকটিম সনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষাও করা হয়।

ইতোমধ্যে তৎকালীন পুলিশের গাফলতি ও কালক্ষেপনে মামলার অনেক আলামত নষ্ট হয়। এরই মধ্যে বেশ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তেও তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে অর্পন করে পুলিশ হেড কোয়ার্টার। সিআইডিতে হস্তান্তরের পর কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল হলেও বদল হয়নি মামলার তদন্তের অবস্থা।

ইতোমধ্যে সিআইডি এ মামলায় রিয়াজ ও গিয়াস উদ্দিন নামের ভিকটিমের দুই প্রতিবেশীকে সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েও কোন ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন ও আসামী সনাক্তে ব্যর্থ হয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন সিআইডি।

এদিকে বাদী দরিদ্র ও মামলার খরচ জোগাড়ে অক্ষম হওয়ায় আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য চলতি বছরের ২রা ডিসেম্বর জাতীয় আইন সহায়তা প্রদান সংস্থা, লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটি বরাবরে আবেদন করেন। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিটির সদস্য সচিব সিনিয়র সহকারী জজ ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী উক্ত মামলাটিতে বাদীকে আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য প্যানেল আইনজীবি হাছান আল মাহমুদকে নিয়োগ প্রদান করেন।

নিয়োগ প্রাপ্তির পর আইনজীবি বাদি পক্ষের আরজী, ১৬১ ধারার জবানবন্দীসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনাক্রমে সিআইডির দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন।

আদালত সরকার পক্ষ, লিগ্যাল এইড কর্তৃক নিযুক্ত বাদীর আইনজীবি ও সন্দিগ্ধ আসামীপক্ষের আইনজীবিগণের শুনানী শেষে সিআইডির দাখিলকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদন না মঞ্জুর করেন। বাদীর নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে পিবিআই নোয়াখালীকে মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার আদেশ প্রদান করেন।


এই বিভাগের আরো খবর