শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

চোরের বিচার করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন চেয়ারম্যান

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩৭৮ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চোরের বিচার করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন চেয়ারম্যান

লক্ষ্মীপুর সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নে আমির আলী নামে এক চোরের বিচার করতে গিয়ে মামলায় ফেঁসে গেলেন চেয়ারম্যান-মেম্বার সহ ৮জন। চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে আমির আলী নামীয় ওই চোর। পরে এলাকাবাসী চোরকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় দিলে মুছলিকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে উল্টো থানা গিয়ে মামলা করেন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ এলাকাবাসির বিরুদ্ধে।
জনপ্রতিনিধিরা বলছেন-নির্বাচনী প্রতিপক্ষ একটি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠি চোরকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা মামলা করেছেন। এলাকাবাসী চোরের ন্যায় বিচার দাবী করছেন।

বুধবার অনুসন্ধান কালে জানা যায়, চররমনী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমির আলী নামে এক
চোর পার্শ্ববর্তি মোঃ বাচ্ছু মাষ্টারের ঘরে (২৩ আগষ্ট) রাত প্রায় ২টার দিকে চুরি করতে গেলে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে তারা স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ স্বপনের বাড়ীতে নিয়ে যায় ওই চোরকে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবু ইউসুফকে খবর দিলে পরদিন সকালে তিনি এসে শতাধিক জনতার সম্মুখ্যে স্বীকারোক্তি নিলে দোষ স্বীকার করে আমির আলী। স্ত্রী-সন্তানদের অনুনয়-বিনয়ের কারণে থানায় সোপর্দ্দ না করে মুছলিকা নিয়ে ওই চোরকে ছেড়ে দেয়।
৬দিন পর চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ যারা চোরকে ধরেছে তাদেরকে সহ ৮জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ২ সেপ্টেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং ৩৩৬/২০।  এ মামলার সকল আসামীরা আদালত হতে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। চোরের দায়েরকতৃ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুর-মজুচৌধুরীর হাট মহাসড়কের উত্তর বাজারে সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন করা হয়। বক্তারা আমির হোসেনের বিরুদ্ধে এ ঘটনার পূর্বে কয়েক ঘরে চুরির অভিযোগ এনে চোরের বিচার সহ মামলার সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানান তারা।
আমির আলীর দায়েরকৃত মামলার স্বাক্ষী, ইব্রাহিম ভূঁইয়ার পুত্র রফিক ভূঁইয়া, আবু হোসেন ভূঁইয়ার পুত্র বাগা ওরপে আবদুল করিম ভূঁইয়া জানান, আমির আলী এলাকার একজন চিহ্নিত চোর। যে মামলায় আমাদেরকে সাক্ষী দিয়েছে তাহা সম্পূর্ণ ভূয়া ও মিথ্যা। আমরা ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানিনা।
স্বাক্ষী নিজামের স্ত্রী নারগিছ জানান, আমির আলী মিথ্যা মামলা দিয়ে জনপ্রতিনিধি সহ নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেছে। তার মামলার ঘটনার বিষয়ে আমার স্বামী কিছুই জানেনা, তাকে জিজ্ঞাসা না করে এ মামলায় তাকে স্বাক্ষী দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ শরীফ জানান, রাত প্রায় ২ ঘটিকায় শোর-চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হলে আমির হোসেন নামীয় এক চোরকে ধরে এলাকাবাসী ঘিরে ফেলছে। মোঃ বাচ্ছু নামীয় এক ব্যাক্তির ঘরে ঢুকার চেষ্টা কালে স্থানীরা তাকে ধরে ফেলে বলে জানান। জেসমিন আক্তার জানান, আমির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও আরো কয়েকটি ঘরে চুরি করেছে। আমরা এ চোরের বিচার দাবী করছি বলে জানান।

মোঃ বাচ্ছু জানান, আমি মধ্য রাতে শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বাহির হয়ে দেখি স্থানীয় জনতা ওই চোরকে ধরে রাখছে, সে আমার ঘরে চুরি করার উদ্দেশ্যে মই এনে বাহির থেকে ঘরের ওয়ালের সাথে লাগিয়ে উপরে উঠে ওয়ালের উপর টিনের বেড়া খুলে ঢুকার মুহুর্তে ধরা পড়ে। এ ছাড়া তিনি বলেন, স্থানীয় জনতা প্রাথমিক চোরকে চড় থাপ্পড় দিলেও জনপ্রতিনিধিরা তাকে নির্যাতন করেনাই বলে তিনি জানান।

আসামীপক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ জানান, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট, একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র করে চোরকে দিয়ে আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার ঘটনার তরিখের ৬দিন পর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের স্লিপ দিয়ে এ মামলা আনায়ন
করেছে। সকল আসামীরা জামিনে আছে। বিজ্ঞ আদালতে এ মিথ্যা মামলার আসামীরা ন্যায় বিচার পাবে এবং মামলা থেকে খালাশ পাইবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


এই বিভাগের আরো খবর