শিরোনাম:
রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রায়পুরের ৬নং কেরোয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাত হোসেন লিটন কলাপাড়ায় ১ জেলেকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ নৌ- পুলিশের বিরুদ্ধে” প্রাথমিকে নিয়োগ ও বেতন নিয়ে সুখবর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব কুয়েতের লক্ষ্মীপুর যুবলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১২ লক্ষ্মীপুর দলিল জালিয়াতির মামলায় ৩ আসামী কারাগারে লক্ষ্মীপুরে চার সন্তানকে ঘরে রেখে আগুন : মায়ের বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা নতুন ফ্ল্যাটে জীবনকে ভালোবাসছেন পরীমনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি: গণিত মডেল টেস্ট ১
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০৭ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

স্বনামধন্য বঙ্গসন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

এম জেড মাহমুদ / ৩৫৪ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

স্বনামধন্য বঙ্গসন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সেই হিসাবে এ বছর তাঁর জন্ম শত বার্ষিকী।

এই স্বনামধন্য বঙ্গসন্তানের পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান। তিনি গোপালগঞ্জের গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন।

১৯৪২ সালে গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ১৯৪৪ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে একই কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। স্কুলজীবন থেকেই তাঁর মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল।

১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৩ সাল থেকে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। রাজনীতিতে তিনি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর একজন ঘনিষ্ঠ অনুসারী।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৪৯ সালে তিনি কারাবন্দী থাকা অবস্থায় নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে তার সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তরুণদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে তিনি নিজের অন্তরে লালন করেন।

তরুণ রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করার তার যে ক্ষমতা ছিল, তা তিনি ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে প্রদর্শন করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ওই পদে বহাল থাকেন।

এই আওয়ামী মুসলিম লীগই পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নামে রূপান্তরিত হয়। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।

১৯৫৮ সালে যখন পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয় এবং বাঙালিদের ওপর দমনপীড়ন শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু তখন এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তরুণদের সংগঠিত করেন।

পাকিস্তানি দুঃশাসন ও বৈষম্যমূলক নীতির শিকার সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে বাঙালিদের প্রতি যে অমানবিক শাসন-শোষণের প্রক্রিয়া চলতে থাকে, তা থেকে জাতিকে মুক্তির লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছিল ঐতিহাসিক ৬ দফা।

পরবর্তী সময়ে প্রমাণিত হয়েছে, ৬ দফাই ছিল পূর্ববাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রধান সোপান। ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলনের জোয়ারে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনের ফলাফল গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী স্বভাবতই ’৭০-এর নির্বাচনে হার মেনে নিতে পারেনি।

পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে প্রতিদিন হরতাল চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। তিনি বহু দলে বিভক্ত বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণে। তার উদাত্ত আহবান জাদুকরী প্রভাব ফেলেছিল সবার হৃদয়ে।

এই ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাহস, দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবেই আমাদের কাছে রক্ষিত আছে এবং থাকবে।

সবাই জানেন, ১৫ আগস্ট ছিল বাংলার জনমানুষের অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছুসংখ্যক বিপথগামী সামরিক অফিসারের হাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে সপরিবারে শহীদ হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর এবং তাঁর পরিবারসহ ১৫ আগস্টে যারা শাহাদত বরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে জননন্দিত মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নাম। তাঁর আপসহীন সংগ্রাম, নিরলস সাধনা, অসীম সাহস ও উদ্দীপনা, দেশমাতার জন্য অফুরন্ত ত্যাগ ও ভালোবাসা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই বাঙালির আত্মপরিচয়ের আরেক নাম শেখ মুজিবুর রহমান।

দীর্ঘ এ সংগ্রাম শেষে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শুরু করেন আরেকটি যুদ্ধ। এই যুদ্ধ সমৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি ও উন্নতির। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থা থেকে দেশকে গড়ে তোলার প্রাথমিক কাজ সম্পাদন করে বঙ্গবন্ধু সূচনা করেছিলেন তার ‘অর্থনৈতিক মুক্তি’ অর্জনের সংগ্রাম।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হৃদয়বান ও মানবিক নেতৃত্ব খুবই বিরল। তিনি মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন, আর তার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশ ও মানবপ্রেম। মানবকল্যাণে উৎসর্গকৃত বঙ্গবন্ধু চিরদিন মানুষের হৃদয়েই চিরজীবী হয়ে থাকবেন।


এই বিভাগের আরো খবর