শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

কালাইয়ের মাটিতে বিদেশি তরমুজ চাষ

কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা / ৩৫১ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে খ্যাত এবং ধান ও আলু উৎপাদনের জন্য জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা পরিচিত প্রাচীনকাল থেকেই। তবে নতুন করে, নতুনভাবে উপজেলায় এই প্রথম ও বড় পরিসরে বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষের ব্যাপক সফলতার দ্বার খুলে দিয়েছে উপজেলার বহুতিদর্গাপাড়ার বর্গা চাষি এনামুল হক। তিনি ৩৩ শতক জমি বর্গা নিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন।

বর্তমান তার কাঙ্ক্ষিত ছোট-বড় কয়েকশ তরমুজ মাচায় মাচায় গাছের ডোগায় ডোগায় ঝুলে বাতাসে দুলছে। তিনি নতুন জাতের এই তরমুজ চাষের সফলতা আনায় এলাকায় অনেক কৃষক চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কালাই সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তর দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতিদর্গাপাড়া। সেই পাড়াই বর্গা চাষি এনামুল হক নিজস্ব উদ্যোগে ৩৩ শতক বন্যামুক্ত ও উচু জমিতে বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজ চাষ বাণিজ্যিকভাবে শুরু করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী বলা হয়। কিন্তু উষ্ণ অঞ্চল হওয়ায় এই উপজেলায় কোথাও রসালো ফল তরমুজের চাষ হয় না। এরপরও রাজশাহীর বরেন্দ্রভূমি হিসেবে খ্যাত কালাইয়ে এই প্রথম বিদেশি তরমুজ চাষ করে সফল কৃষকের খাতায় নাম লিখিয়েছেন এনামুল হক। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে গত জুন মাসে ২৪ তারিখে তার জমিতে প্রায় ১হাজার ৩০০টি বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজের বীজ রোপণ করেন। তার নিবেদিত চেষ্টা, শ্রম, সততা আর ঘামের প্রতিফলন সুরভিত হয়ে কাঙ্ক্ষিত ছোট-বড় কয়েকশ তরমুজ মাচায় মাচায় গাছের ডোগায় ডোগায় ঝুলে বাতাসে দুলছে। বিষ ও ফরমালিন মুক্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ তরমুজগুলোর রং হলুদ, খেতে সুস্বাদু, দেখতে আকর্ষণীয় ও চাহিদা বেশি, ভালো দাম থাকায় এবং লাভজনক হওয়ায় এই জাতের তরমুজ দেখতে ক্ষেতে ভিড় করেন অনেকেই।

উপজেলার বহুতিদর্গাপাড়ার বর্গা চাষি এনামুল হক বলেন, ‘৩৩শতক জমি বর্গা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে ২২টি বেড করে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখি। এরপর জুনে ২২ তারিখে ১৮ ইঞ্চি পর পর বিদেশি তাইওয়ানের গোল্ডেন ক্রাউন জাতের হলুদ রংয়ের তরমুজের বীজ রোপণ করি। বীজ রোপণের ৩৫ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। ৪০ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। তারপর ৭৫ দিনের পরিপক্ব হয়ে মাচায় ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের প্রায় ২ হাজার ৪০০ তরমুজ এবং তরমুজ পরিপক্কের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি করা শেষ হবে। ঐ তরমুজ কাটলে ভেতরে লাল টুকটুকে, রসালো আর খেতে মিষ্টি ও খুব সুস্বাদু।

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি এই মাসেই সব তরমুজ বিক্রি হবে। বর্তমান বাজারে এই তরমুজের চাহিদা অনেক বেশি, দামও ভালো আছে। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হবে। এই পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। এতে সব কিছু খরচ বাদ দিয়ে আমার আয় হবে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।’

স্থানীয় কৃষক নুরুল মিয়া ও আব্দুল খারেক জানান, এনামুলের অসময়ে তরমুজ চাষ দেখে অনেকেই হাসাহাসি করেছেন। কিন্তু তরমুজ চাষের ফলন ভালো ও স্বাদ ভালো হাওয়ায় এখন অনেকেই চাষ করতে তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। এনামুলের মতো তারাও এখন ভাবছেন, ঐ জাতের তরমুজের চাষ করবেন। তার তরমুজ দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা এক নজর দেখতে আসেন। আবার কেউ কেউ তরমুজ কিনছেনও।

উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জেবা বলেন, ‘এই উপজেলার কৃষকেরা ধান ও আলুর চাষ করতে বেশি আগ্রহী। ধান ও আলুর চাষাবাদ ছাড়াও অনেক ধরনের ফল চাষ করে অধিক লাভবান হওয়া যায় সেই চেষ্টাই আমরা এলাকায় একটি আধুনিক তরমুজ চাষ সৃষ্টি করেছি। সেই তরমুজ চাষ করে বর্তমান আমরা সফল হয়েছি। সেই সঙ্গে ঐ তরমুজ নিয়ে এলাকার সকল কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তাছাড়া এলাকাতে পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এনামুল হক অর্থনৈতিকভাবে অনেক স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। তার এই সফলতা গড়ে তোলার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে।’


এই বিভাগের আরো খবর