শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

করোনায় শিক্ষাসূচিতে বিপর্যয়, বাড়ছে উদ্বেগ

চলমান বাংলা ডেক্স / ৩৪৮ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২০

করোনায় শিক্ষাসূচিতে বিপর্যয়, বাড়ছে উদ্বেগ

চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী বাতিল জেএসসি, জেডিসি বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি প্রতিষ্ঠান খোলার ১৫-২০ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষার চিন্তা ছুটি আরো বাড়বে, ঘোষণা আসবে বৃহস্পতিবার

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেচলতি বছরের পুরো শিক্ষাসূচি তছনছহয়ে গেছে। ৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীএখন ঘরে বন্দি। কার্যত পড়াশোনারবাইরে এই শিক্ষার্থীরা। কবে নাগাদস্কুল-কলেজ খুলবে তা কেউ নিশ্চিতকরে বলতে পারছেন না। আর পরীক্ষানিয়েও নানা অনিশ্চয়তায় ভর করছে।সব মিলিয়ে পড়ালেখা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়েপড়েছেন কমবেশি ১০ কোটি শিক্ষার্থী-অভিভাবক।

জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানখোলার কথা থাকলেও করোনারপ্রাদুর্ভাবের কারণে তা খুলছে না। ছুটিআরো বাড়বে এমন আভাস দিয়েছেমন্ত্রণালয়। করোনায় সংক্রমণের হার ওমৃত্যু সংখ্যা না কমলে এ ছুটি ফের বাড়ানোহবে। অভিভাবকদের বেশি শঙ্কা পরীক্ষানিয়ে। ৫ম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী গতকালবাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এইচএসসি, অষ্টম শ্রেণির জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষারবিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতেপারেনি মন্ত্রণালয়। আর জাতীয়বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্তত শতাধিকপরীক্ষা বাতিল হয়েছে। বাতিল হয়েছেসরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরসহস্রাধিক পরীক্ষা। ফলে বড় ধরনেরপরীক্ষা জটে পড়তে যাচ্ছে জাতীয়বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারিবিশ্ববিদ্যালয়ও। এই জট কাটিয়ে উঠতেলেগে যেতে পারে কয়েক বছর।

এ দিকে করোনার কারণে অনলাইনেপাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্যসরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়াহলেও তার খুব একটা সুফল মিলছে না।আবার অনলাইন পাঠদানে শহরেরশিক্ষার্থীরা কিছুটা বইমুখী হলেও গ্রামেরশিক্ষার্থীর বেলায় এই হার কার্যত শূন্য।কারণ গ্রামের শিক্ষার্থীরা অনলাইন সুবিধাপাচ্ছে না। এছাড়া করোনায় স্কুলেরটিউশন ফি নিয়ে অভিভাবক ও স্কুলকর্তৃপক্ষের মধ্যে চলছে চরম বিরোধ। স্কুলকর্তৃপক্ষ পুরো টিউশন ফি চাইছে। আরঅভিভাবকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান বন্ধ।পাঠদান নেই। তাই অন্তত ৫০ শতাংশটিউশন ফি মওকুফ চাইছেন তারা। কিন্তুস্কুল কর্তৃপক্ষ তা মানতে নারাজ। এবিষয়টিও উদ্বেগের পাল্লা ভারী করছেঅভিভাবকদের।

প্রাথমিক সমাপনী বাতিল: চলতি বছরপ্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ওইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবেনা। এই পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারেপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েরপ্রস্তাবের সারসংক্ষেপে অনুমোদনদিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবারসচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনেপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রীবলেন, আমরা এ বছর এই দুটি পরীক্ষানিচ্ছি না। যদি স্কুল খোলা যায় তাহলেবিভিন্ন পদ্ধতিতে স্কুলেই বার্ষিক পরীক্ষানিব।

বার্ষিক পরীক্ষার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়েরসিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, এটা স্কুল কর্তৃপক্ষ বলতেপারবে, আমরা তাদের দায়িত্ব দেব।শিক্ষকরা যেভাবে প্রশ্ন করবেন সেভাবেইহবে, স্ব স্ব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইসিদ্ধান্ত দেবেন। তিনি বলেন, জাতীয়প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে (নেপ) সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসেরজন্য তিনটি পাঠ পরিকল্পনা করতে বলাহয়েছিল। যেহেতু সেপ্টেম্বরে এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিবেশ তৈরিহয়নি তাই অক্টোবর এবং নভেম্বরকেসামনে রেখে যে পাঠ পরিকল্পনা করাহয়েছে এর ভিত্তিতে প্রথম থেকে পঞ্চমশ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা নিবে স্কুলগুলো।এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেকীভাবে স্কুল খোলা যায়, সেই নীতিমালাইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগিগরই তাজারি করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবেখোলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়একসঙ্গে বসে নেবে। কবে স্কুল খোলা যাবেআগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই সিদ্ধান্তনেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রাথমিকের পাঠ পরিকল্পনা যেভাবে : প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বার্ষিকপরীক্ষার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে শ্রেণিকার্যক্রম শুরু করা গেলে পাঠ্যক্রমের ৪০শতাংশ পড়ানো হবে। আর নভেম্বরে শুরুকরা গেলে পড়ানো হবে ২৮ থেকে ৩০শতাংশ। অপরদিকে করোনা পরিস্থিতিশুরুর আগে পাঠ্যক্রমের ৩০ থেকে ৩৫শতাংশ পড়ানো হয়েছে। আগের ও পরেরপঠিত মোট পাঠ্যক্রমের ওপর ডিসেম্বরেরশেষের দিকে নেওয়া হবে বার্ষিক পরীক্ষা।

পরিকল্পনায় ২০ ডিসেম্বর শ্রেণি কার্যক্রমশেষ করার প্রস্তাব আছে। অক্টোবরে শ্রেণিকার্যক্রম শুরু করা গেলে আগে-পরেমিলিয়ে পাঠ্যবইয়ের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশপড়ানো শেষ করা হবে। আর নভেম্বরেশ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা গেলে আগে-পরেমিলিয়ে ৬০-৬৩ শতাংশ পড়ানো সম্ভবহবে। সেই অনুযায়ী সিলেবাস পরিমার্জনকরার কাজও শেষ হয়েছে। এছাড়া চলতিবছর স্কুল খোলা হলে শীতকালীন ছুটিবাতিল করা হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা: গত এপ্রিলের প্রথমসপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাহওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগস্টের শেষেএসেও এ পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। কবেনেওয়া যাবে এ বিষয়ে এখনো কোনোচূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। শুধু বলা হচ্ছে, পরীক্ষা শুরুর ১৫/২০ দিন আগে পরীক্ষারসূচি প্রকাশ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানখোলার ১৫/২০ দিন পর এই পরীক্ষা হবে।১৪ লাখ পরীক্ষার্থীর এই পরীক্ষায় অংশনেওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি এক ভার্চুয়ালআলোচনায় বলেছেন, কবে নাগাদঅনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে আমরা জানিনা। অনেক কিছুই আমাদের পরিকল্পনায়রেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত এইচএসসিপরীক্ষার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ারপরিস্থিতি হয়নি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিহওয়ার পর মার্চ মাসের আগে সাধারণতক্লাস শুরু হয় না। আমরা যদি ফেব্রুয়ারিরমধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে যারাএবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তাদেরএক দিনও সময় নষ্ট হবে না বিশ্ববিদ্যালয়েভর্তি বা ক্লাসের ক্ষেত্রে।

জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষা : গত ৬আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীরমুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়পিইসি পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়টিবিবেচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।একই বৈঠকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট(জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট(জেডিসি) পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যাপারেওআলোচনা হয়েছিল। সে আলোকেপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেপ্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানোহয়েছিল। যা অনুমোদন দিয়েছেনপ্রধানমন্ত্রী। তবে জেএসসি/জেডিসিরবিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করছেশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছেসারসংক্ষেপ পাঠানো নিয়ে কেউ মুখখুলতে চাচ্ছেন না। তবে একটি সূত্রজানিয়েছে, শিক্ষাবিদরা পরীক্ষা বাতিলেরপক্ষে মত দিলেও বোর্ড চেয়ারম্যানরাপরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে রয়েছেন।


এই বিভাগের আরো খবর