শিরোনাম:
রোহিঙ্গা নিপীড়নকারীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রায়পুরের ৬নং কেরোয়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাদাত হোসেন লিটন কলাপাড়ায় ১ জেলেকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ নৌ- পুলিশের বিরুদ্ধে” প্রাথমিকে নিয়োগ ও বেতন নিয়ে সুখবর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির প্রস্তাব কুয়েতের লক্ষ্মীপুর যুবলীগের দু-গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১২ লক্ষ্মীপুর দলিল জালিয়াতির মামলায় ৩ আসামী কারাগারে লক্ষ্মীপুরে চার সন্তানকে ঘরে রেখে আগুন : মায়ের বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা নতুন ফ্ল্যাটে জীবনকে ভালোবাসছেন পরীমনি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি: গণিত মডেল টেস্ট ১
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

রংপুর অঞ্চলে সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া

রংপুর প্রতিনিধি / ৪২৩ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২০

 

সবজি উৎপাদনের এলাকা বলে খ্যাত রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ফসলের গাছ মরে যাওয়ায় সবজি বাজারে সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া হয়েছে।

করোনার প্রভাবে সারাদেশ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় তরি-তরকারি ও সবজি বাজারে দরপতনে নেমে আসলেও এখন বাজার দর হয়েছে উল্টো। কৃষকরা ন্যায্য মূল্যর চেয়েও কয়েক গুন বেশি দামে বিক্রি করছে তাদের উৎপাদিত পণ্য। ফলে ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

দেশি পিয়াজ ৬৫ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ১৮০ টাকা কেজি টমেটো ৮০ টাকা, বেগুন ৭৫ টাকা, ঢেঁড়স ৮০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা তরকারির মূল্য বৃদ্ধিও ফলে খদ্দের মিলছে না বলছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এ অঞ্চলের চাষীরা ধান, পাটসহ অন্যান্য অর্থকরী ও খাদ্যশস্য উৎপাদনের চেয়ে এ উপজেলায় শাকসবজি অধিক পরিমাণ উৎপাদন করেন কৃষকরা। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে এ জেলায় দুই হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে পটোল, বরবটি, কাঁকরোল, করলা, বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ক্ষেতের ফসল ও সবজি গাছ মরে গেছে এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক।

রংপুর অঞ্চলের বৃহৎ কাঁচা তরিতরকারির আড়ত সিটি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, একমাত্র আদা ১৪০ টাকা কেজি ছাড়া অন্য সব তরি-তরকারির দাম খুবই বেশি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শসা ৩৫/৪০ টাকা কেজি, করলা ৮০/৮৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, বটবটি (সিম) ৮০ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, পটল ৫৫/৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ছোট লাউ ৪৫/৫০ টাকা বড় সাইজের লাউ ৬৫/৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তরিতরকারি ব্যবসায়ী এমদাদুল হক জানান, এবারের মতো এতো বেশি দাম গত ১৫ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে কখনও দেখেনি। ফলে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে ।এতে করে ব্যবসায় বেশী পুঁজি বিনিয়োগ করতে হিমসিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। অপর এক তরকারি ব্যবসায়ী মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, যার দুই কেজি কেনার কথা তিনি এক কেজি কিনছেন। মূল সমস্যা সাধারণ মানুষের অর্থ সংকটের কারণে এ অবস্থা। কয়েক জন ব্যবসায়ী বলেন, শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষ বাজারে আসলেও প্রতিটি সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেটাও কেনার সামর্থ্য তাদের নেই।

রংপুরের কাউনিয়া,পীরগাছা,মিঠাপুকুরের বলদীপুকুর, দমদমা, জায়গীরহাট, রানীপুকুরের পীরগজ্ঞ,মতো বড়বড় সবজি ও তরিতরকারির পাইকারি হাটে ঘুরে দেখা গেছে বিভিন্ন তরিতরকারির স্তূপ আর আগের মতো নেই।

সবজি চাষী আনোয়ার হোসেন, করিম উদ্দিন বলেন, আমরা মূলত সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করি। এবার আমাদের উৎপাদিত সবজি ক্ষেত বৃষ্টিতে মরে গেছে। এমনি সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সবজি তরিতরকারি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যেত, এবার তাদের কাউকে আর সবজি দিতে পারছি না। এ অঞ্চলের কিছু কৃষকের উঁচু ক্ষেত নষ্ট হয়নি তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রি করছে বলে জানান তারা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সরওয়ারুল হক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের আওতার বাইরে কৃষিপণ্য পরিবহন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে তাদের পণ্য বিক্রি, ফসল চাষাবাদ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আশা করি করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকদের পণ্য পরিবহন, ফসল চাষাবাদে কোনো সমস্যা হবে না। তবে অতি বৃষ্টি ও বন্যা সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর