মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ খেলা

রিয়াজ উদ্দিন মাহমুদ / ৩৬৫ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০

 

কালের বিবর্তনে লক্ষ্মীপুর থেকে
হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলা। কোনো গ্রামে দেখা যায় না এসব খেলা। ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে জনপ্রিয় সেই খেলাগুলো। আধুনিক সংস্কৃতির বিশ্বে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না প্রাচীন খেলাগুলো। হাডুডু দাঁড়িয়াবাঁন্দা, কানামাছি, গোল্লাছুট, লুডু, লাটিম, বৌচি, টিলো এক্সপ্রেস, ডাংগুটি, মোরগের লড়াই, ওপেন্টি বায়োস্কোপ প্রভৃতি খেলা ছিল খুবই জনপ্রিয়। কালের বিবর্তনে ওই সব খেলাই হারিয়ে গেছে কালের অতল গর্ভে। এখনকার সময়ের অনেক তরুণ জানে না ওই খেলাগুলো কী বা কিভাবে খেলা হতো। গ্রামে থাকা তরুণদের এখন ল্যাপটপ, কম্পিউটার নিয়ে ছোটাছুটির পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবল নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। আগে প্রতিটি গ্রামের স্কুলের মাঠে, বাড়ির পাশের খালি জমিতে, হাটবাজারের মাঠে প্রতিনিয়ত ফুটবল, ভলিবল ও হাডুডু খেলার প্রতিযোগিতা হতো। এক গ্রামের সাথে অন্য গ্রাম, এক স্কুলের সাথে অন্য স্কুল, বিবাহিত বনাম অবিবাহিত, হিন্দু বনাম মুসলমান এভাবে পরিচালিত হতো প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাগুলো নিয়ে রীতিমত সাড়া পড়ে যেত। দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে এসে খেলা দেখতেন। আর খেলা উপলক্ষে আয়োজন হয়ে যেত ছোটখাট মেলা। গ্রামের মানুষ উৎসাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখে আনন্দ পেতো। হোটেল বা চা-দোকানে খেলা নিয়ে চলত আলোচনা। প্রতিযোগিতা যে এখনো হচ্ছে না তা নয়। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর ব্যাপারে আর আগ্রহ নেই গ্রামের তরুণদের। কানামাছি, বৌচি খেলায়ও আগ্রহ নেই স্কুলের কিশোর- কিশোরীদের। বড় প্রতিযোগিতায় সেরাদের জন্য থাকত শিল্ড, কাপ, টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে। বর্তমানে শিল্ড তো পুরোপুরি হারিয়েই গেছে। ‘লুডু খেলা ছিল গ্রামের একটি প্রিয় খেলা। অবসর সময়ে ছোট-বড়, গৃহবধূসহ সবাই এ খেলাটি খেলতেন। বৃষ্টি নামলে লুডু খেলার পাশাপাশি ধুম পড়ত মুড়ি খই মিঠাই খাওয়ার। এখন আর আয়োজন করে লুডু খেলা হয় না। বালকদের পছন্দ ছিল লাটিম খেলা। লাটিম খেলার একটি আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা ছিল লাটিম ফাটানো। অর্থাৎ খেলার মাধ্যমে কে কার লাটিম ফাটাতে পারে। নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো ইতিহাস কিংবা রূপকথার গল্পের মতো শুনাবে। আকাশ সংস্কৃতির ফলে বর্তমান বিশ্ব চলছে নতুন ধারায়। আগে প্রতিটি স্কুলেই বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো। সেখানে ঐতিহ্যবাহী খেলার চর্চা থাকত। বর্তমানে অনেক স্কুল জানেই না বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কী।’ অথচ ঢাকা শহরসহ গ্রাম গঞ্জের সব স্কুলেই নেয় হয় সেশন ফি। সেখানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতারও একটি অপশন থাকে। প্রতিটি স্কুলেই একজন করে ক্রীড়া শিক্ষক থাকেন। কিন্তু স্কুলে নেই খেলার কোনো ব্যবস্থা। কয়েকটি স্কুলে খেলার জায়গা থাকলেও ক্রীড়া শিক্ষককে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্লাস নেয়া হয়। ক্রীড়া পরিষদও এ ব্যাপারে নির্বিকার। এ বিষয়ে মিরসরাইয়ের সাবেক তুখোড় ফুটবলার উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘গ্রামীণ অনেক পুরোন খেলা এখন আর দেখা যায় না। আমার মনে হচ্ছে ফুটবল খেলাও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এখন বছরে দু’একটি টুর্নামেন্ট ছাড়া তেন ফুটবল খেলা চোখে পড়ে না। সবাই ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত।’ আমি আশা করব পুরনো খেলা চালু করতে না পারলেও আমাদের ফুটবল খেলাটি নিয়মিত খেলতে হবে।’


এই বিভাগের আরো খবর