শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

পানিতে ভাসছে ফরিদপুরের ‘পেঁয়াজের রাজ্য’

ফরিদপুর প্রতিনিধি / ৫২ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১

 

পানিতে ভাসছে ফরিদপুরের ‘পেঁয়াজের রাজ্য’ খালের মাঝ দিয়ে বালির বাঁধ। ফরিদপুরে কয়েক হাজার একর জমিতে জলাবদ্ধতা
ফরিদপুরে পেঁয়াজের রাজ্য হিসেবে খ্যাত নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা। তবে এ দুই উপজেলায় কয়েক হাজার একর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা নিয়ে অনিশ্চিত দেখা দিয়েছে। খালে বাঁধ দিয়ে রেললাইনের কাজ করায় ক্ষেতে আটকা পড়েছে পানি। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। দ্রুত বাঁধ অপসারণ করে ক্ষেত থেকে পানি সরানো না হলে ব্যাহত হবে পেঁয়াজচাষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার কয়েকটি বিলের পানি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে চলা রাইনের খালে গিয়ে পড়ে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে নগরকান্দার গজারিয়া এলাকায় আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে রেললাইনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক চলাচল করছে। যে কারণে বিলের জমি থেকে পানি অপসারণ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের সময় অতিবৃষ্টির পানি বাঁধের উজানে আটকা পড়েছে। বাঁধ থাকায় এ পানি নামছে না। ফলে পেঁয়াজসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফসল আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে ওই এলাকার কৃষকদের।
ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় অগ্রহায়ণ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পৌষের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে পেঁয়াজের আবাদ। কিন্তু পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় চাষিরা এখনও পেঁয়াজের আবাদ শুরু করতে পারেননি। বাঁধের দুই পাশে প্রায় তিন চার ফুট উঁচু পানি। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধের মাঝে দুটি পাইপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপ দিয়ে যে পরিমাণে পানি বের হচ্ছে তাতে দুপাশ সমতল হতে প্রায় এক মাস সময় লেগে যাবে। ততদিনে পেঁয়াজ আবাদ করা সম্ভব হবে না। তাই দু-একদিনের মধ্যে বাঁধটি খুলে দেওয়ার দাবি কৃষকদের।
হতাশা প্রকাশ করে পেঁয়াজচাষি দাউদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রায় সাড়ে তিন একর জমি এখনও দুই ফুট পানির নিচে। কবে এই জমি শুকাবে আর কবে পেঁয়াজের আবাদ করবো?’। একই অবস্থা কৃষক ইব্রাহিম, রেজাউল করিম, আলাল উদ্দিনসহ অনেকের।
এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘এই বাঁধের কারণে কৃষকদের সর্বনাশ হয়েছে। কয়েক হাজার একর ফসলি জমি এখনও পানির নিচে। এতে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন।’

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রেল লিংক প্রকল্পের ম্যানেজার চীনের নাগরিক মি. থানের দোভাষী ইব্রাহীম খলিল ইমন জাগো নিউজকে বলেন, ‘পানি বের হওয়ার জন্য বাঁধের মাঝে দুটি পাইপ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যদি স্থানীয়রা মনে করেন আরও বেশি পানি নিষ্কাশন প্রয়োজন, তাহলে তারা বাঁধ কেটে দিতে পারেন। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রয়োজনে পরে আমরা ভরাট করে কাজ করবো।’


এই বিভাগের আরো খবর