সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুর মসজিদ কমিটির অনিয়মে ক্ষুদ্ধ মুসল্লীরা প্রতিবাদ করায় একজন লাঞ্চিত

বিশেষ প্রতিনিধি / ৬৮ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১

 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর তেমুহনী জামে মসজিদ কমিটির অনিয়মে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুসল্লীরা। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি হামলা-মামলার স্বীকার হয়েছে কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মোঃ নূরনবীসহ কতেক মুসল্লীরা। বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্তি ও নতুন কমিটি গঠনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন কমিটির ওই সদস্য।

লক্ষ্মীপুর সদরের প্রাণ কেন্দ্র উত্তর বাসষ্ট্যান্ডে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে মসজিদটি অবস্থিত।

অনুসন্ধানে জানাযায়, প্রায় পাঁচ যুগ আগে মরহুম সায়েদ উল্যা মৌলভীর পাঁচ ছেলের মধ্যে মরহুম সোলতান আহম্মদ, রফিক উল্যাহ, সফিক উল্যাহ সহ স্থানীয় ধর্মভীরু ব্যাক্তিরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের জন্য ১৯৫১ সালের সিএন্ডবির একোয়ারকৃত জমিতে প্রথমে সুপারীগাছের মাছা দিয়ে ছোট্ট পরিসরে এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন তারা। বিভিন্ন সময় এ প্রতিষ্ঠাতারা মসজিদ কমিটির দায়িত্ব থাকাকালে বড় পরিসরে সেমিপাকা মসজিদ থেকে দ্বিতল মসজিদ ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে মসজিদটি তিন তলা বিশিষ্ট সুউচ্ছ একটি ভবন। এ মসজিদের নীচ তলায় রয়েছে ১০টি দোকান। যা মসজিদের বৃহৎ আয়ের অংশ। সরকারী অনুদানের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লী ও সমাজের ধন্যাঢ্যশালীদের দান অনুদানে মসজিদটি বহুমূখী আয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে মসজিদের এসব টাকা সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। কমিটিতে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। প্রতিবাদকারীরা আক্রান্ত হচ্ছে কমিটির সদস্যদের দ্বারা। ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করছেনা

সম্প্রতি মসজিদ কমিটির সদস্য মোঃ নূরনবী মসজিদের টাকা তছরুপ ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় প্রতিবাদ করায় মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী ও ক্যশিয়ারসহ কয়েকজন মিলে পরিকল্পিত ভাবে মাগরিবের নামাজ শেষে শত শত মুসল্লীর উপস্থিতিতে তাকে ব্যাপক মারধর ও রক্তাক্ত করে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মসজিদের সেক্রটারী ও ক্যাশিয়ার সহ ১০জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মসজিদের অনিয়ম, কমিটি বিলপ্তি ও জবাবদিহিমূলক নতুন কমিটি গঠন কল্পে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ করেন তিনি। লক্ষ্মীপুর থানার মামলা নং-৪৭। মামলার বিবাদীরা হলেন, হারিছ মিয়ার ছেলে মোঃ আজাদ ও মোঃ লিটন, হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের ছেলে সারু, ধনু মিয়ার ছেলে আবদুল মতিন, সানা উল্যা কেরানীর ছেলে মোঃ আনোয়ার, সাহাদ উল্যার ছেলে রিয়াজ, মোজাফ্ফর আহম্মদের ছেলে মোঃ ভুলু, এলাহী বক্সের ছেলে জোবায়ের, মুয়াজ্জিন আবদুল্যাহ ও রাজিবপুর গ্রামের হোসেন আহম্মদের ছেলে কাশিম ডাক্তার। বিবাদীরা সদর উপজেলার বাঞ্চানগর গ্রামের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

মোঃ নূরনবীর দায়েরকৃত মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন থেকে এ মসজিদের আয়-ব্যায়ের হিসাব কমিটি সঠিক ভাবে উপস্থাপন করছেনা, নিয়মিত রেজুলেশন হচ্ছেনা, মসজিদের যৌথ হিসাব নম্বরে আয়ের সব টাকা জমা হচ্ছেনা, সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ক্যাশিয়ার ব্যাতীত বাকী সদস্যরা মিটিংএ আমন্ত্রণ পাচ্ছেনা, মসজিদের টাকা তছরুপ হচ্ছে। টয়লেট ও প্রস্রাবের ব্যবস্থা করছেনা। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আগত মূসল্লীদের নামাজ আদায় করতে বিঘ্ন ঘটছে। মসজিদের পথে চা-পান দোকান দিয়ে মুসল্লীদের চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। দু’জন মোয়াজ্জিন অন্য পেশায় জড়িত থাকায় নিয়মিত আযান ও পয়:পরিস্কার থাকছেনা মসজিদ। মুসল্লীদের মতামত না নিয়ে নিজেরা স্বঘোষিত কমিটি ঘোষণা করে নিজেদের মত করে মসজিদ পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়। কমিটির এসব অনিয়ম নিয়ে যে কোন মুহুর্তে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্ন হতে পারে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগী নুরনবী।

জুম্মার সালাত আদায় করতে আসা ৩য় তলার কয়েকজন মুসল্লী জানান, ইমাম সাহেব নামাজে ক্বেরাত পড়া অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রুকু-সেজদায় ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।

আবদুর রহিম নামে একজন মুসল্লী জানান, প্রায় দিন মসজিদের মেঝোতে বালি ও অজুখানায় নোংরা থাকে। সঠিক সময়ে আজান হচ্ছেনা। প্রচন্ড তাপদাহে জামায়াতে নামাজ আদায় মুহুর্তে প্রায় সময় উপরে ও নীচের তলার এসি বন্ধ থাকে। কমিটির সঠিক তদারকি থাকলে এমন সমস্যা হতনা বলে তিনি জানান।

একজন ব্যবসায়ী জানান, মসজিদের ব্যাপক আয়ের উৎস থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত মসজিদের জন্য টয়লেট ও প্রস্রাখানা নির্মানের কোন উদ্যেগ নেইনি কমিটির। ফলে নামাজ আদায়ে ব্যাপক সমস্যার সম্মূখীন হতে হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উত্তর তেমুহনী জামে মসজিদের সভাপতি মুজাম্মেল হক সেলিম মাস্টারের মুঠফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত করে জানান মসজিদ হল আল্লাহর ইবাদাতের স্থান। এখানে মারামারি, হানাহানি, অন্যায় ও অনিয়ম করার জায়গা নহে। মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ আদায়ে যেন বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় সে দিকে তিনি সজাগ দৃষ্টি রাখছেন বলে জানান।


এই বিভাগের আরো খবর