বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১১:১৭ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

চাষাবাদের ছাড়পত্র পেলো ‘বঙ্গবন্ধু ধান’

বিশেষ প্রতিনিধি / ৪৬ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১

 

উচ্চমাত্রার জিংক-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু ধান ব্রি ১০০-সহ ৬ জাতের ধান চাষাবাদের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বোরো মৌসুমে সারা দেশে চাষযোগ্য এই ৬ জাতের ধানের মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করেছে ৫টি এবং অপর একটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। এ ছাড়াও কৃষি মন্ত্রণালয় দুই জাতের গম, এক জাতের পাট এবং দুই জাতের আখ চাষাবাদের জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরার সই করা প্রজ্ঞাপনটি ২৬ আগস্ট গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করা ধানগুলো হলো—বঙ্গবন্ধু ধান ব্রি ১০০, ব্রি ধান ৯৯, ব্রি ধান ৯৮, ব্রি ধান ৯৭ এবং ব্রি ধান ৯৬। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ধান হচ্ছে বিনা ধান-২৪। চাষের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (ডব্লিউএমআরআই) উদ্ভাবিত দুই জাতের গম হচ্ছে—ডব্লিউএমআরআই গম-৩ ও ডব্লিউএমআরআই গম-২। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত নতুন জাতের পাট হচ্ছে—বিজেআরআই দেশি পাট-১০। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিটিউ (বিএসআরআই) উদ্ভাবিত নতুন দুই জাতের আখ হচ্ছে—বিএসআরআই আখ-৪৮ ও বিএসআরআই আখ-৪৭

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাষের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু ধান’ ব্রি ১০০ একটি উচ্চমাত্রার জিংক-সমৃদ্ধ ধান। ব্রি ১০০ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম হয়। বোরো মৌসুমে চাষযোগ্য এ ধানের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ৭ টন। এ ধান উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৮ দশমিক ৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম বলে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বলাই কৃষ্ণ হাজরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ধানটি ব্রি উদ্ভাবিত ১০০তম ধান। এখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী চলছে। একশ’তে একশ’ মিলে যাওয়ার কারণেই আমরা এই নামকরণের বিষয়টি বিবেচনা করি। বঙ্গবন্ধুর নামে কোনও কিছু করতে হলে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমতি নিতে হয়। আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী ওই ট্রাস্টের সভাপতি। এ কারণে আমরা সেখানে আবেদন করে অনুমতি নিয়ে নামকরণটি চূড়ান্ত করেছি।’

ধানটি উচ্চ ফলনশীল উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই ধানটির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ৯ মেট্রিক টন। আমরা যদি কৃষকদের মাঝে এই ধানটি ছড়িয়ে দিতে পারি এবং তারা ব্যাপকভাবে চাষাবাদ করেন, তাহলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন, তা বাস্তবায়নে এটি ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।

১৭ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি

কমানো শুল্কে চাল আমদানিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুমতি নেওয়ার শেষ দিনে আরও এক লাখ এক হাজার মেট্রিক টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে ৪২৮ প্রতিষ্ঠানকে ১৭ লাখ ২ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার।

সোমবার (৩০ আগস্ট) এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আমদানির জন্য বরাদ্দ দিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট ৪১ প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ১০ হাজার টন, ১৮ আগস্ট ৬৯ প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ১৮ হাজার টন, ২১ আগস্ট ৯১ প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ ৯১ হাজার, ২২ আগস্ট দুই লাখ ২২ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য ৭৩ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে, ২৩ আগস্ট ৯৪ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য ৪১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে এবং ২৪ আগস্ট ৫৭ হাজার টন সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য ৩৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়।

চাল আমদানির শর্তে বলা হয়েছে, আমদানি করা চালে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ ভাঙা দানা থাকতে পারবে। বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে হবে এবং এ সংক্রান্ত তথ্য (বিল অব এন্ট্রিসহ) খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ই-মেইলে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।

বরাদ্দ পাওয়া আমদানিকারকদের আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু/জারি করা যাবে না। আমদানি করা চাল স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান নামে ফের প্যাকেটজাত করা যাবে না। এছাড়া প্লাস্টিকের বস্তায় আমদানি করা চাল বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খুলতে ব্যর্থ হলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে।

চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ১২ আগস্ট চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চালের আমদানি শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করে এনবিআর। এই সুবিধা আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইতোমধ্যে আমদানি করা চাল স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে।

ফ্লাইটে পাইলট নওশাদের জন্য নফল নামাজ পড়েন ক্রু

ভারতের আকাশে উড়োজাহাজে হুট করেই নিথর হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। তার সঙ্গে থাকা ফার্স্ট অফিসার মোস্তাকিম বোয়িং ৭৩৭-৮০০’র ককপিটের কন্ট্রোল নেন। পাইলটের অসুস্থতার খবরটি ফার্স্ট অফিসার মোস্তাকিম মেডিক্যাল ইমার্জেন্সে ঘোষণা করলেন। সব কিছু ঠিক করে অবতরণের জন্য প্রস্তুত কেবিন ক্রুরা। নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে হাতে আছে আরও কিছু সময়। পাইলটের সুস্থতা ও নিরাপদে অবতরণের জন্য দোয়া কামনা করে নফল নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন একজন কেবিন ক্রু।

১২৪ জন যাত্রী নিয়ে ওমানের মাস্কাট থেকে ঢাকার পথে আসছিলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি। গত শুক্রবার (২৭ আগস্ট) বিজি ০২২ ফ্লাইটে থাকা ক্রুদের বর্ণনায় ওঠে এসেছে সেদিনের ঘটনা। সেই ফ্লাইটে ১২৪ জন যাত্রী ছাড়াও ২ জন ককপিট ক্রু ও ৬ জন কেবিন ক্রু ছিলেন।

ফ্লাইটে থাকা একজন কেবিন ক্রু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হুট করে ককপিট থেকে ফার্স্ট অফিসার মোস্তাকিম জানালেন ক্যাপ্টেন নওশাদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ককপিটে গিয়ে আমরা তার অবস্থা দেখে বুঝতে পারি তিনি মারাত্মকভাবে হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তার নিজের যে খারাপ লাগছে, কিংবা অসুস্থ বোধ করছেন- এ কথা বলারও সুযোগ পাননি। তিনি পুরোই কলাপ্স করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কেবিন ক্রু বলেন, আমি পাইলটের সুস্থতার জন্য দোয়া করেছি, যাত্রীদের জন্য দোয়া করেছি, নিজের জন্যও দোয়া করেছি। যেন আমরা সবাই নিরাপদে অবতরণ করতে পারি। দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েছি।

পরে ফ্লাইটটি ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানের পাইলটকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৩০ আগস্ট) সকালে মারা যান ক্যাপ্টেন নওশাদ।

প্রসঙ্গত,ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম ১৯৭৭ সালের ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট হিসেবে যোগদান করেন।

ভারত থেকে ফিরেছেন বিমানের ১২৪ যাত্রী 

গুম-খুনের রাজনীতির শুরু জিয়ার হাতেই: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই দেশে গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সেই ধারা খালেদা জিয়াও অব্যাহত রেখেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সোমবার (৩০ আগস্ট) বিকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট- পিআইবি আয়োজিত অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে মন্ত্রী তার বাসভবনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গুমের রাজনীতি শুরু হয়েছে’—এর জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জিয়া তার ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে সেনা সদস্যসহ হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। কারাগার থেকে ধরে নিয়ে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ফখরুল সাহেব, রিজভী সাহেবদের মনে রাখা উচিত—জিয়াউর রহমানের হাতে কত মানুষ গুম হয়েছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যায় ওতপ্রোতভাবে জড়িত জিয়া ক্ষমতা দখলের পর যে খুনের রাজনীতি করেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী তৎকালীন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ বাবু, চট্টগ্রামের মৌলভী সৈয়দও রেহাই পাননি। তাই তার দলের নেতাদের মুখে গুম নিয়ে কথা শোভা পায় না।’

এর আগে অনলাইন সেমিনারে মন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের তথ্য উদঘাটনে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু গুটিকতক বিপথগামী সেনা সদস্যই বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি, এর পেছনের মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের সময় ঈদের জামায়াতে আওয়ামী লীগের পাঁচ জন সংসদ সদস্যকে হত্যা, বাসন্তীকে জাল পরিয়ে অভাবের বানোয়াট ছবি প্রচার, পাটের গুদামে আগুন দেওয়াসহ দেশবিরোধী নানা চক্রান্ত এবং দেশের স্বার্থে বাকশাল গঠনের সত্যিকার পটভূমি মানুষের সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

একাত্তর-পঁচাত্তরের সময়ের সাংবাদিকরা যারা জীবিত রয়েছেন, তাদের বক্তব্য সংরক্ষণের জন্য এ সময় প্রেস ইনস্টিটিউটকে নির্দেশনা দেন তথ্যমন্ত্রী। পিআইবি মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন, বিশেষ বক্তা হিসেবে ইতিহাসের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, ড. মোহাম্মদ হান্নান প্রমুখ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

১০ জেলায় বন্যার আশংকা

বেড়েই চলেছে দেশের বেশ কয়েকটি নদীর পানি। বিশেষ করে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে বেশি। এই নদীর ৮ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে আরও কিছু এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা  মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা  মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বাড়তে পারে ব্রহ্মপুত্র নদ, পদ্মা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি। এছাড়া যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। তবে গঙ্গা নদীসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর পানি কমছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানায়, যমুনা নদীর আট পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই নদীর মথুরা পয়েন্টে পানি ২  থেকে বেড়ে এখন ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই নদীর আরিচা পয়েন্টে পানি ১ থেকে বেড়ে ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে পানি ২ থেকে বেড়ে ১৪, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ২২ থেকে বেড়ে ৩২, কাজিপুর পয়েন্টে ১৭ থেকে বেড়ে ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া নতুন করে ফুলছড়ি পয়েন্টে ১০, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৩৪, পোড়াবাড়ি পয়েন্টে পানি ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এদিকে পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৩ থেকে বেড়ে ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সুরেশ্বর ও ভাগ্যকুল পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। অন্যদিকে আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ৩৪ থেকে বেড়ে ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ থেকে বেড়ে ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মেঘনার চাঁদপুর পয়েন্ট, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। এদিকে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ৩২ থেকে বেড়ে ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে এখন।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে মৌলভীবাজার স্টেশনে, ৯৩ মিলিমিটার। এছাড়া মনু রেলওয়ে ব্রিজে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উজানে ভারতের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে আইজলে, ২৫ মিলিমিটার।

ক্যাপ্টেন নওশাদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ কাইয়ুমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৩০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য, সোমবার সকালে ভারতের নাগপুরে একটি হাসপাতালে মারা যান ক্যাপ্টেন নওশাদ। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে ২৭ আগস্ট ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে গত ১২৪ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে মধ্য আকাশে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুম। সিভিয়ার হার্ট অ্যাটাক হয় তার।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল ফ্লাইটটির (বিজি ০২২) নিয়ন্ত্রণ নেন ফার্স্ট অফিসার মোস্তাকিম। তিনি ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করান। সেখান থেকে দ্রুত ক্যাপ্টেন নওশাদকে স্থানীয় হোপ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে তার চিকিৎসা চলছিল।


এই বিভাগের আরো খবর