সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৩ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

ভিক্ষা ছেড়ে বই বিক্রি করছে মরিয়ম

জহির উদ্দিন মাহমুদ / ৯২ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

 

 

মরিয়ম, বয়স (১২)। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি হাসপাতাল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে লুঙ্গি পড়া জনৈক ব্যক্তির কাছে-শিশুদের বই বিক্রি করছেন। আমিও একটা বই চাইতেই সে দ্বিগুণ দাম চাইল। এতো দাম চাও কেন? প্রশ্নের উত্তরে সে নরম কণ্ঠে বলল-কিনতেন না কিল্লাই-কন? চার দিন আগে ভিক্ষা করা ছাড়ি দি এহন বই বেচি। ধন্যবাদ দেন আর আমনে ১টা বই কিন্না নেন। তখন ৪০ টাকার বই ৭০ টাকায় কিনলে সে খুবই খুশি হয়।

বুধবার সকালে রায়পুর সরকারি হাসপাতালের সামনে আমার সাথে মরিয়মের কথা হলে, সে তার কষ্টের কথা বলে কেঁদে দেয় আর চিকিৎসার জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তি ও সরকারের কাছে সহযোগিতাও চায়।

মরিয়ম জানায়, তার বাবার বাড়ি ফরিদপুর শহরে। আর মা’র বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া এলাকার ফকির বাড়ি। তারা দুই বোন ও এক ভাই। সে সবার বড়। সে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তার রোগ হল, (পায়ু পথে রক্ত ঝড়ে)। তার খুব কষ্ট। তার মাকে কেউ সাহায্য দেয় না। মা বলেছেন- বাবার বংশে প্রথম ছেলে না হওয়ায় মা’কে নানার বাড়িতে রাখি চলে গেছেন। আর আসেন নাই। শুনেছি বাবা আবার বিয়ে করেছেন। আমার মাও আরেক জনকে বিয়ে করেছেন। তিনি রিকশা চালান। কয়দিন আগে রিকশা চুরি হয়ে গেছে। এখন সবাই নানার বাড়িতে থাকেন। লকডাউনে স্কুল বন্ধ। ভিক্ষা করে যে টাকা পেত, তা দিয়ে ওষুধ কিনত আর ছোট দুই ভাই-বোনরে দিত।

মরিয়ম আরও বলেন, গত শুক্কুরবার রায়পুর শহরের বড় মসজিদের সামনে দাঁড়াই আছিলাম। এক বেডা আই আমায় বলে, কিছু বই কিনি দেই। সেগুলো বিক্রি করে টাকা তোমার মা’রে দিও। ভিক্ষা করিও না। হেইদিন থাকি ভিক্ষা ছাড়ি দি -এহন হাসপাতালের সামনে ও বাজারে হাঁটি হাঁটি বই বেচি। হত্তেকদিন ৭/৮ বই ৫০০/৬০০ টেকা বেচি। ৩০০/৪০০ টেকা লাভ হয়-হেই টেয়া মারে নিয়া দি। কিন্তু রাস্তার মইদ্দে বড্ডা হোলারা খারাপ কতা কয়। আঁর খুব ডর লাগে। কেও যদি আঁরে অসুখের টেয়া দিতো। তাড়াতাড়ি বালা অই যাইতাম। এ সময় এক ব্যক্তি মরিয়মকে কিছু টাকা দিয়ে ভাত খেতে বললে, সে টাকা নিয়ে চলে যায়।

উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , গত বছর ভিক্ষুকমুক্ত উপজেলা গড়তে উপজেলা প্রশাসন ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলেও। তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে ইউএনও সাবরীন চৌধুরি বলেন, শিশু মরিয়মের আগ্রহের কথা শুনে ভালো লেগেছে। ভিক্ষা ছেড়ে দিয়ে শিশু বয়সে বই বিক্রি করছে। আমি হতবাক হলাম। তাকে সহযোগিতা দেয়া হবে। ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।

 


এই বিভাগের আরো খবর