বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ১১:১০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

চীনের হুমকি উপেক্ষা, তিব্বতিদের অধিকার সুনিশ্চিতে বিলে ট্রাম্পের সই

প্রতিবেদক: / ৬০ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০

বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার উত্তরসূরী নির্বাচন এবং তিব্বতের পরিবেশ সংরক্ষণে তিব্বতিদের অধিকার সুনিশ্চিত করে একটি বিল পাস করেছিল মার্কিন কংগ্রেস। রোববার (২৭ ডিসেম্বর) সেই বিলে স্বাক্ষর করে তা আইনে পরিণত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিল পাসের পরই তীব্র পতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই আইন চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

এর আগে, বেইজিং-ওয়াশিংটনের সম্পর্কে চরম অবনতি ডেকে আনবে বলে এই বিলে স্বাক্ষর করা থেকে ট্রাম্পকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু বেইজিং এর হুমকি-ধামকিকে কোনো পাত্তাই দিলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রোববারের নতুন আইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বাক্ষর করার খবরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই নতুন মার্কিন আইন পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছে বেইজিং। অন্যদিকে ভারতের নির্বাসিত তিব্বত সরকার বা সেন্ট্রাল তিব্বত অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রেসিডেন্ট ‘লোবসাং সাঙ্গে’ বলেন, এই আইন তিব্বতিদের পক্ষে আশা ও ন্যায় বিচারের শক্তিশালী বার্তা।

তিনি আরও যোগ করেন, তিব্বতি জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পরিবেশ রক্ষার অধিকার এবং তিব্বতি গণতন্ত্র সুনিশ্চিতে মার্কিন সমর্থন জোরদার করেছে এই আইনে।

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা আইন তিব্বত-কে পৃথক দেশ হিসেবে স্বীকৃত দিয়ে সেখানকার প্রধান শহর লাসায় মার্কিন দূতাবাস প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। ১৪তম দালাই লামার উত্তরসূরী ১৫তম দালাই লামার নিয়োগে চীনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কমিউনিস্ট দলের হস্তক্ষেপ রোধেই এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। বর্তমান দালাই লামাকে চীনের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে দেখে বেইজিং। নির্বাসিত দালাই লামা থন্ডুপ-কে বিপজ্জনক ধর্মীয় নেতা অ্যাখায়িত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

আইনে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও তিব্বতিদেরই শেষ কথা বলার অধিকার বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন আইনে চীন সরকার এবং দালাই লামার মধ্যেও আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিব্বতে চীনা হস্তক্ষেপ কমাতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের লক্ষ্যেই মার্কিন সরকার এই আইনটি আনল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৫০ সালে পিপলস লিবারেশন বা ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তি’ অভিযানের নামে তিব্বত দখল করে নেয় চীন। চীনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের চেষ্টা করেছিল দালাই লামা। সেই বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ায় ১৯৫৯ সালের এপ্রিল মাসে হাজার হাজার অনুগামীদের নিয়ে ভারতের ধর্মশালায় পালিয়ে আসেন ১৪তম দালাই লামা। ভারতের বর্তমানে ৮০ হাজার এর বেশি তিব্বতি বসবাস করেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে আছেন ১ লাখ ৫০ হাজারের মতো নির্বাসিত তিব্বতি।


এই বিভাগের আরো খবর