রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

১৫ দিনেও মেলেনি কৃষকের লাশ পরিবারে চলছে আহাজারী

বিশেষ প্রতিনিধি / ৩৬৭ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

লক্ষ্মীপুর চর রমনি মোহন ইউনিয়নে রাকিব নামে এক কৃষককে জবাই করে হত্যার পর পরিবারের সামনে লাশ তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ১৫ দিনেও মেলেনি কৃষকের লাশ। লাশ পেতে পরিবারে চলছে আহাজারী।

মামলার এজহারের বিবরনে ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,
লক্ষ্মীপুর-ভোলার সীমানায় চর মেঘায় হারিছ সর্দারের কৃষি জমি আছে। গত ২৩ নভেম্বর ছেলে রাকিব ও কয়েকজন কৃষক জমিনে কাজ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা নৌকা যোগে এসে তাদের মারধর করে রাকিবকে ধরে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে হারিছ সর্দারসহ পরিবারের কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দ্বারা রাকিবের শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত করে গলা কেটে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মৃত দেহ মাটিতে ফেলে রাখে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আলাউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, সোহেল, শান্তা, মোসলেহ উদ্দিনসহ কয়েকজন জখমপ্রাপ্ত
হয়। পরে সন্ত্রাসীরা রাকিবের লাশ নৌকায় তুলে নিয়ে যায়, বহু আকুতি মিনতি করার পরও লাশ ফেরত দেয়নি সন্ত্রাসীরা।
হারিছ সর্দার জানান, এর আগে গত ১৭/৭/২০২০ তারিখে চরে জমির ফসল দেখতে গেলে ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা নৌকা যোগে এসে অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে ও ছেলে রাকিবকে এ চরে না আসার হুমকি দিয়ে তাদেরকে কুপিয়ে জখম করে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। তিনি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিল। তার মাথায় জখমের স্থানে ২৪টি ও পায়ে ৬টি শেলাই দেওয়া হয়। ছেলে রাকিবের মাথায় ৭টি শেলাই করা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে রাকিব বাদী হয়ে ৭জনকে আসামী করে থানায় মামলা করে। লক্ষ্মীপুর থানার জি.আর মামলা নং-২৬৪, তারিখ: ১৮/৭/২০২০ইং। মামলা করার পর থেকে আসামীরা তাকে ও রাকিবকে হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে। মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীকে কুপিয়ে গলাকেটে হত্যা করে তারা।
এ হত্যার ১৫ দিন পার হলেও কৃষকের লাশ পেলনা পরিবার। রাকিবের পরিবারের আহাজারি থামছেনা। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে খুজছে ছেলের লাশ। পরিবারে একটিই আকুতি কোথায় গেলে পাবে রাকিবের লাশ। এ হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা করেছেন নিহত রাকিবের পিতা হারিছ সর্দার। লক্ষ্মীপুর সদরের ২০নং চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে হারিছ সর্দারের ছেলে নিহত রাকিব।
তিনি জানান, রাসেল খাঁ সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে মেঘনায় জেগে ওঠা চর মেঘাসহ বিভিন্ম চর দখল করছে। চরের জমির ফসল জোরপূর্বক নিয়ে যায়, নিরিহ জেলে-কৃষকদের শান্তিতে বসবাস করতে দিচ্ছেনা তারা। কৃষি পেশার পাশাপাাশি হারিছ সরদার ওর্য়াড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছে। এ ইউনিয়নের বসবসরত চরমেঘায় নিরিহ জেলে-কৃষক পরিবারগুলোকে তিনি সাধ্য মত
সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এতে হারিছ সরদার ওই বাহিনীর চক্ষুসূল হয়ে পড়ে বলে তিনি জানান।

এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা হারিছ সর্দার বাদী হয়ে ২৬/১১/২০২০ইং তারিখে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলার আসামীরা হল, ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মেউজা গ্রামের শামছু খাঁর ছেলে মিন্টু খাঁ, রাসেল খাঁ, হালিম খাঁ,
শাহজান রাঢ়ীর ছেলে আলিম উদ্দিন রাঢ়ী, পঞ্চায়েত আলীর ছেলে মহিজল আলী, ছিডু বেপারীর ছেলে কালাম বেপারী। লক্ষ্মীপুর চররমনী ইউনিয়নের (চরমেঘা) গ্রামের মোসলেউদ্দিন আখনের ছেলে রশিদ আখন, ইয়াছিন
আখন, করিম আখন, ইসমাইল আখন, ইব্রাহীম আখন, ইসমাইল আখনের ছেলে হযরত আখন ও রিপন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাবিরুন নেছা জানান, রাকিবের হাত নাড়া দেখে কাছে যেয়ে তাদের বললাম বাবারে আমার ছেলে দোষ করলে আমি ক্ষমা চাচ্ছি ছেলেকে ফিরায় দেও চিকিৎসা করি। একথা বলতেই তারা আমাকে মারপিট করে। ছেলের কাটা গলায় পাঁড়া দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং তার পেটে লাথি মেরে দেখে মরছে কিনা। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, প্রতিদিন ছেলের লাশ বিভিন্ন স্থানে খুজছি,  ১৫ দিন পার হয়ে গেছে কিন্তু কোথায় গেলে পাব ছেলের লাশ।

প্রত্যক্ষদর্শী শান্তা বেগম জানায়, আসামীরা আমার ভাইকে জবাই করে হত্যা করে ফেলে রেখেছে। তারা সবাই হাতে চেনী নিয়ে ঘুরাফেরা করছে ভাইয়ের দ্বিখন্ডিত লাশ নিতে গেলে তারা আমার বাম হাতে চেনি দ্বারা কোপালে আমি অজ্ঞান হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে যায়। হাসপাতালে নিয়ে জখমের স্থানে ৩৭টি সেলাই করে বলে জানান তিনি।
রাকিবের স্ত্রী শান্তি বেগম জানান, সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে হত্যা করে এতিম করেছে আমার ৭মাসের সন্তানকে আর আমি হয়েছি বিধবা। তিনি স্বামীর লাশ পাওয়া আকুতি জানিয়ে এ হত্যার ন্যায় বিচারের দাবী জানান।
চররমনী মোহন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মো: আবু ইউছুফ জানান, চরে নিজেদের জমির ধান দেখতে গেলে রাকিবকে সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে হত্যা করেছে এবং কয়েকজনকে জখম করেছে। রাকিবের বাবা-মা এসে আমাকে বিষয়টি জানায়। তিনি এ হত্যার ন্যায় বিচার দাবী করেন।
ঐ এলাকার হাজার হাজার মানুষ
এ হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান।


এই বিভাগের আরো খবর