যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণের জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই সেতু নির্মাণ হলে স্বল্প সময়ে অপেক্ষাকৃত অধিক সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। বর্তমানে ৩৮টি ট্রেনের স্থলে সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলন এমনটি জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী।এসময় মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যমুনা নদীর ওপর যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচল করে। এই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলার সময় এর গতি রাখতে হয় ২০ কিলোমিটার। কোনও কোনও সময় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার গতিতে অতিক্রম করতে হয় সেতুটি। এর ফলে ট্রেন চলাচলের সময় বেশি লাগে। তাই যমুনা নদীর ৩০০ ফিট উজানে বঙ্গবন্ধু ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর ফলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিম অঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলো ক্রসিংজনিত কারণে পূর্বের ন্যায় স্টেশনগুলোতে অপেক্ষা করতে হবে না। রেলওয়ে পরিচালন ব্যয় কমবে ও রেলওয়ে আয় বৃদ্ধি পাবে।

তাছাড়া, নতুন এই সেতুর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় ট্রেনসমূহ পূর্ণাঙ্গ ট্রেন কম্পোজিশন ও সেকশনাল গতিতে ব্রডগেজ ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ও মিটারগেজ ট্রেন ১০০ কিলোমিটার ঘণ্টায় গতিবেগে চলাচল করতে পারবে।একই সাথে পূর্বের চেয়ে অধিক তুলনায় যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে পারবে। এই সেতু চালু হলে কন্টেইনার ট্রেন পরিচালনার কার্যক্রম শুরু করা যাবে বিধায় রেলওয়ে আয় বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ।এদিকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। যার মধ্যে জিওবি ৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা এবং জাইকা প্রকল্পে সাহায্য করবে ১২.১৪৯ কোটি টাকা। সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে এবং নতুন সেতুর ওপর ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানানো হয়।প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ট্রাকসহ প্রায় চার দশমিক ৮০ কিলোমিটার রেল সেতু নির্মাণ এবং উভয় প্রান্তে ০.০৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, প্রায় ৭.৬৭৭ কিলোমিটার রেলওয়ে এপ্রোস এমব্যাংমেন্ট এবং লুপ ও সাইডিংসহ মোট প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব এবং পশ্চিম এর নতুন স্টেশন ভবন ইয়ার্ড রিমডেলিং। রেলওয়ে ব্রিজ মিউজিয়ামও নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের আওতায়।