মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

অবসরে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সুখবর

এম জেড মাহমুদ / ৬৫ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অবসরে যাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য সুখবর

নতুন জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক অবসরে গিয়ে পেনশন-গ্র্যাচুইটি পাচ্ছেন না তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় ছাড় দিলে এসব শিক্ষকরা পেনশন ও গ্র্যাচুইটি পাবেন।
জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন  বলেন, ‘নতুন সরকারি হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস ছিল, তাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিলো তিন বছরের মধ্যে সিইন-এড (সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন) কোর্স করতে হবে অথবা এইচএসসি পাস করতে হবে। যারা করেননি তারা অবসরে গিয়ে পেনশন পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তথ্য চেয়েছি। তথ্য পেলে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার তিনটি ধাপে নিবন্ধিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। এসব বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা ছিল না। জাতীয়করণের পর শিক্ষক আত্তীকরণের সময় এসব শিক্ষকদের তিন বছরের মধ্যে সিইন-এড কোর্স সম্পন্ন করে এইচএসসি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব শিক্ষকদের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করলেও অনেকে করেননি। ফলে অবসরে যাওয়ার পর তারা পেনশন-গ্র্যাচুইটি পাচ্ছেন না।

এই জটিলতা নিরসনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর এসব শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কাছে এই তালিকা চাওয়ার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর অধিদফতর মাঠ পর্যায়ের উপ-পরিচালক ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দেয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শর্ত অনুযায়ী যেসব শিক্ষকরা কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন না করে অবসরে গেছেন, তাদের পেনশন দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এমনকি যারা শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন না করেই অবসরে গেছেন তাদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেতন ফেরত চাওয়ার অবস্থা তৈরি হয়ে গেছে সরকারি বিধি-বিধানের আলোকে।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেন-দরবার করে যদি বিশেষ ব্যবস্থায় অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের ক্ষমা করে পেনশনের ব্যবস্থা করা যায় সে চেষ্টা করবে মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন,  আমরা চেষ্টা করবো, পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে অর্থ বিভাগের ওপর। সে কারণেই তথ্য চেয়েছি।

অবসরে যাওয়া এসব শিক্ষকদের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম বলেন, ‘অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের মানবিক বিবেচনায় নিয়ে পেনশন-গ্র্যাচুইটি দেওয়া উচিত। সারাজীবন শিক্ষকতা করেছেন, হয়তো ভুলবশত কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করেননি। তাই বিশেষ বিবেচনায় পেনশন-গ্র্যাচুইটি দেওয়ার দাবি জানাই।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব ও সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, ‘জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের যেসকল শিক্ষক কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের আগেই পিআরএল বা অবসরে চলে গেছেন, তাদের পেনশন প্রাপ্তিতে নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনের শর্ত শিথিল করা যেতে পারে সরকার। অবসরে যাওয়া শিক্ষক পরিবারের প্রতি মানবিক দৃষ্টিতে পেনশন-গ্র্যাচুইটির দাবি জানাই।


এই বিভাগের আরো খবর