বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:১০ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

৪ ফসলিতে বদলেছে উত্তরের অর্থনীতি

রাহিমা আক্তার মুন্নি / ৪৪৭ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

 

উত্তর জনপদ বলে চিহ্নিত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলায় দেশের এক চতুর্থাংশ জনগণের বাস হলেও খাদ্য চাহিদার আনুমানিক ৪০ ভাগের জোগান আসে এখান থেকেই। উত্তরের পঞ্চগড়ে যৎসামান্য পার্বত্য ভ‚মি ছাড়া বাকি ১৫ জেলার সমতল ভ‚মিতেই ধান, পাট, আখ, গম, আলুসহ সব ধরনের তেল বীজ এবং মশলা জাতীয় কৃষি পণ্য উৎপাদন হয় ব্যাপকভাবে।

প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ অধ্যুষিত এই জনপদের মধ্যে ১ কোটিরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষির উপরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আশার কথা দেশে তথা উত্তরাঞ্চলে করোনা’ সংক্রমণের শুরু থেকেই এর অশুভ ছায়া তেমনভাবে পড়েনি। তবে করোনা প্রকোপের শুরুর দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজারজাত করণে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়। শাক ও সবজি জাতীয় কৃষি পণ্য আড়তে বা জমিতেই নষ্ট হতে থাকে। উৎপাদক চাষী ও মধ্যস্বত্ত¡ভোগী ফড়িয়া ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়ে। তবে খুব দ্রæতই পরিবহণের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে গেলে ফের স্বাভাবিক হয়ে যায় কৃষি সেক্টর।

দেশে এখন আমন ধানের ভরা মৌসুম। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের চলনবিল এলাকাসহ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ধরলা ও বাঙালী নদীর উপক‚লবর্তী এলাকা সমূহে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথেই পলি পড়া জমিতে চাষিরা আমনের বীজ রোপন করে চলেছেন। শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত চলবে এই রোপনের কাজ।
অন্যদিকে বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ এবং নাটোরের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে আউশ কাটা মাড়াইয়ের কাজ। চাষিরা জানিয়েছে, আউশ কাটার পরপরই ওই জমিতেই প্রয়োজন হলে সেচ দিয়ে প্রস্তুত করে আমনের চারা রোপন করা হবে। তারা জানায় যদি শ্রাবণের শেষ প্রান্তিকে স্বাভাবিক বর্ষণ হয় তাহলে হয়তো সেচ দেয়ার প্রয়োজন হবে না।

এদিকে এবার উত্তরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও সেই সাথে আষাঢ়-শ্রাবণের বর্ষণে নদী তীর ও চরাঞ্চলে বসবাসকারি মানুষের জন্য দুর্ভোগের সৃষ্টি হলেও বৃহত্তর অর্থে তা’ কল্যাণই বয়ে এনেছে কৃষি ও মৎস্য খাতের জন্য। জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বগুড়া আর ডি এর সাবেক মহাপরিচালক ও পানি বিশেষজ্ঞ এম এ মতিন এই বিষয়ে বলেন, বহু বিল-খাল, হাজা-মজা গুলো পানিতে ভেসে যাওয়ায় ওই বিলের দেশী মাছ ও সাপ ও ব্যাঙ জাতীয় প্রাণী নীচু জমি ও নদী নালায় ছড়িয়ে পড়ে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবার সুযোগ তৈরী হয়েছে ।

এদিকে কৃষি বিভাগের ‘ক্রপস উইং ’এর তথ্য মোতাবেক গত বোরো মৌসুমের বাম্পার ফলনের পর এখন পর্যন্ত বৃষ্টি মুখর অনুক‚ল আবহাওয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ আমনের চারা রোপনের কাজ শেষ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মাঠে মাঠে এখন কেবলই সবুজ ধানের সমাহার। পাট কেটে জাগ দেওয়ার কাজও শেষ।

ব্যাপক কৃষি উৎপাদনের কারণে উত্তরের প্রত্যেকটি গ্রামীণ হাটবাজারের দোকানে এখন দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ, মরিচ, আদা, হলুদে ঠাসা। কিছুদিন আগে এই সব মশলা জাতীয় পণ্য গুলো ছিল সম্পূর্ণ ভারত বা চীন থেকে আমদানি নির্ভর। শহরের বাজার থেকে গ্রামের মানুষকে সেগুলো সওদা করে নিয়ে যেতে হত!

সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি নির্ভর উত্তরের অর্থনীতিতে যে উৎপাদনমুখী প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। করোনাকালেও তা’ অব্যাহত থাকায় শুধু উত্তরাঞ্চলই নয় পুরোদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকাকেই সচল রাখতে ব্যাপক ভ‚মিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতির অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক এএসএম আইয়ুব ।

প্রবীণ এই অধ্যাপক বলেন, বৃটিশ ,পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের পুরো ৮০’র দশক পর্যন্ত বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলাগুলোর পরিচিতি ছিল মঙ্গার অঞ্চল হিসেবে। আশি^ন ও কার্তিক এই দুটি মাসে এই এলাকার কৃষিজীবী মানুষের হাতে কোন কাজই থাকতো না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্র পুরোটাই পাল্টে গেছে। রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলে এখন জমিতে বছরে ৪ ফসলের চাষ হয়। তাই কৃষি শ্রমিকদের আর বসে বসে অবসর কাটাবার সময় নেই। বগুড়া, নওগাঁ ও দিনাজপুর অঞ্চলে এখন রংপুরের শ্রমিক পাওয়া যায় না। পেলেও তাদের অধিক মজুরি দিয়েই কাজে লাগাতে হয়।


এই বিভাগের আরো খবর