বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি:
পরীক্ষামূলক সম্প্রচার...

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফের বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে মেঘনা উপকূলীয় জনপথ ক্ষতবিক্ষত

প্রতিবেদক: / ৪৪৩ পড়া হয়েছে:
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফের বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে মেঘনা উপকূলীয় জনপথ ক্ষতবিক্ষত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা উপকূলে ২য়বারের মত জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ওই এলাকার প্রায় ২০ টি গ্রাম ও প্রায় ৮ হাজার অসহায় পরিবারের বাড়ি-ঘর।

এতে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয় ওই এলাকার সড়ক, ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৫টি গ্রাম্য বাজারসহ প্রায় ৫’শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জোয়ার ও অতিরিক্ত বর্ষনে প্রায় ৮/৯ হাজার বাড়ীঘরে হাটু পরিমান পানি উঠেছে। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকার ৯টি পশুর খামার, ৩’শত মাছ চাষের পুকুর ও ৪০ টি পোল্টি খামার ডুবে গেছে।

বর্তমান প্রতিকুল অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে ক্ষতি গ্রস্হ এলাকাবাসি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এদিকে,টানা বর্ষনে রায়পুর-পৌর শহরের মুরিহাটা, মধ্যবাজার, পীরফজলুল্লাহ সড়ক, উপজেলা পরিষদ চত্তর, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুন বাজারসহ নয়টি ওয়ার্ডের বাসা-বাড়ীতে হাটু পরিমান পানি বিরাজ করছে। পৌর সভায় পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছ বলে অভিযোগ করেছেন পৌর বাসিন্দারা।

সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার ১০ ইউপির মধ্যে উত্তর চরবংশী-দক্ষিন চরবংশী-উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষষিন চরআবাবিল ইউপির ১৫টি গ্রামের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদহানী ঘটেছে উপকূলবাসীর, এখন কেবলই চোখে পড়ে ক্ষতচিহ্ন।

উপজেলায় বেড়িবাঁধ থাকায় জলোচ্ছ্বাস থেকে বেঁচে গেছে ছয় ইউনিয়নবাসী। কিন্তু মেঘনার বেড়ি বাঁধের পশ্চিম পাশের-পানি ফুঁসে উঠায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তীরবর্তী রায়পুরের চার ইউপির গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। করিম মাঝি বলেন ৭ ফুট উচ্চতার এমন জলোচ্ছ্বাস গত ২০ বছরেও দেখেনি এই এলাকার প্রবিনেরা।

তথ্য অনুসন্ধানে গেলে ক্ষতিগ্রস্হ গ্রামবাসীরা জানান, মেঘনার জোয়ারের পানি কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীরে আঘাত হানে এবং মুহুর্তেই উপকূল অঞ্চলের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তান্ডব চালায়। এ জলোচ্ছ্বাসে বসতঘরসহ আসবাবপত্র , পুকুরের মাছ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে রাস্তারও করুন অবস্থার সৃষ্টি হয় । পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকের ফসলি জমি ও আমন বীজতলা।

ব্যাপক আকারে ক্ষতি হয়েছে জনচলাচলের রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে কয়কটি এলাকা। মূলত এই অঞ্চল নদী কেন্দ্রিক অর্থনীতি নির্ভর হওয়ায় ইলিশের বাজারজাতকরণে এই সড়কগুলো বড় ভূমিকা রাখে বলে এলাকাবাসি জানান৷ সড়কগুলোর এমন বেহাল দশাতে ব্যবসায় বড় ধরণের ক্ষতি দেখছেন ইলিশ ব্যবসায়ীর সাথে কৃষকরাও।

রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্যা বলেন, অধিকাংশ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন। বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে বসবাস করা মানুষের ভিটে-মাটিতো বিলীন করছেই, পাশাপাশি একটু জোয়ার হলে পানিতে সব তলিয়ে যায়। মানুষদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র হাজি ইসমাইল খোকন বলেন, নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শুরু হবে। পানি নিষ্কাশনে কাজ করা হচ্ছে।

এই ক্ষয়িতর ব্যাপারে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিন চৌধূরী বলেন

ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে দেখে এসেছি, এবং স্হানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষতি র পরিমান লিপিবদ্ধ করে জানাতে বলেছি। দ্রুত সময়ে সকল সমস্যার ব্যপারে প্রশাসন সর্বদা আন্তরিকতার সাথে কাজ করবে বলে তিনি জানান।


এই বিভাগের আরো খবর